বদরগঞ্জে নতুন দামে জ্বালানি তেল বিক্রি, পাম্পে দীর্ঘ লাইন ও ভিড়
রংপুরের বদরগঞ্জে সরকারি নির্ধারিত নতুন দামে জ্বালানি তেল বিক্রি শুরু হওয়ায় স্থানীয় পেট্রল পাম্পে ব্যাপক ভিড় ও দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছে। মেসার্স শাহ ফিলিং স্টেশনে পূর্বের মজুত করা পেট্রল প্রতি লিটার ১৩৫ টাকা ৯৪ পয়সায় বিক্রি হচ্ছে, যা হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষ ও পরিবহণ চালকদের মধ্যে চাপ ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
রোববার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দীর্ঘ সারি
রোববার (১৯ এপ্রিল) সকাল থেকেই রাত ১১টা পর্যন্ত মেসার্স শাহ ফিলিং স্টেশনের পাম্পে মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই অভিযোগ করেছেন যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও দ্রুত তেল নিতে পারছেন না। স্থানীয় কয়েকজন চালক জানান, হঠাৎ দাম বৃদ্ধির কারণে খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেকে একসঙ্গে বেশি পরিমাণে তেল নিতে আসায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
জ্বালানি তেলের মজুত পরিস্থিতি
রংপুর জ্বালানি তেলে দৈনিক প্রতিবেদনের তালিকা অনুযায়ী, গত ১৭ এপ্রিল মেসার্স শাহ ফিলিং স্টেশনে ডিজেল মজুত ছিল ৪ হাজার ৫০০ লিটার, পেট্রল মজুত ৩ হাজার লিটার এবং অকটেন ২৫০ লিটার। ১৮ এপ্রিলের প্রতিবেদনে দেখা যায়, মজুত ডিজেল ৪ হাজার ৫০০ লিটার, পেট্রল ২৫০ লিটার এবং অকটেন ২ হাজার ৫০০ লিটার। এই জ্বালানি তেলগুলো ১৯ এপ্রিল সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সকাল থেকে বিক্রি শুরু হয়।
পাম্প মালিক ও কর্মকর্তাদের বক্তব্য
মেসার্স শাহ ফিলিং স্টেশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও ট্যাগ অফিসার আরিফুল ইসলাম জানান, তেল আগে থেকেই মজুত ছিল এবং সেই তেল বর্তমানে ১৩৫ টাকা ৯৪ পয়সায় বিক্রি করা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, পাম্পে তেল আনলোড করার সময় উপস্থিত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তবে কবে তেল আসছে সে বিষয়ে তাকে জানানো হয়নি।
অন্যদিকে, মেসার্স শাহ ফিল্ম পাম্পের মালিক বকুল শাহ জানান, তাদের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি এবং তারা তেল পেয়ে চালকদের দিচ্ছেন। পূর্বের তেল মজুতের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন যে তার পাম্পে কোনো তেল মজুত ছিল না। উপজেলা সহকারী ভূমি কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন বলেন, তিনি পাম্পে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে তেল দেওয়া হচ্ছে কিনা তা যাচাই করতে গিয়েছিলেন, তবে পূর্বের মজুত করা তেল নির্ধারিত দামে বিক্রির বিষয়টি তার জানা ছিল না।
দাম বৃদ্ধির প্রভাব ও আশঙ্কা
পাম্প মালিকদের মতে, নতুন দামের কারণে হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সাময়িক চাপ তৈরি হয়েছে, তবে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন। দাম বৃদ্ধির প্রভাব শুধুমাত্র পরিবহণ খাতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও পড়তে পারে, যা সাধারণ মানুষের ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল চালকরা অভিযোগ করেন, শনিবার রাতে তেলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সেই নির্ধারিত দামেই তেল দেওয়া হচ্ছে, তবে এ বিষয়ে তদারকির অভাব রয়েছে।



