জ্বালানি তেল সংকটে যশোরে সবজি পরিবহনে ট্রাকভাড়া দ্বিগুণ বৃদ্ধি
জ্বালানি তেলের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে যশোর জেলায় দুই দফায় ট্রাকভাড়া বেড়েছে, যা স্থানীয় সবজি ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। বারীনগর পাইকারি সবজির মোকাম থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সবজি পাঠাতে ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে, যা বাজারে সবজির দাম বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ট্রাকভাড়ার ধারাবাহিক বৃদ্ধি
জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দেওয়ার আগে, ৩ টন ধারণক্ষমতার একটি ট্রাক বারীনগর থেকে ঢাকার কারওয়ান বাজারে সবজি পাঠাতে ভাড়া ছিল ১২ হাজার টাকা। সংকট শুরু হলে ট্রাকমালিকেরা এই ভাড়া ৩ হাজার টাকা বাড়িয়ে ১৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করেন। এরপর গতকাল রোববার সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর ভাড়া আরও দুই হাজার টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে গত এক মাসে ট্রাকভাড়া মোট পাঁচ হাজার টাকা বেড়ে ১৭ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা আগের তুলনায় প্রায় ৪২ শতাংশ বৃদ্ধি।
ব্যবসায়ীদের প্রতিক্রিয়া
ব্যাপারী আতিয়ার রহমান আজ সোমবার সাত হাজার কেজি পটোল একটি ট্রাকে করে ঢাকার যাত্রাবাড়ী ও কারওয়ান বাজারে পাঠিয়েছেন। তিনি জানান, জ্বালানি তেলের সংকটের আগে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকায় বারীনগর থেকে ঢাকায় সবজি পাঠানো যেত। সংকট শুরু হলে ট্রাকপ্রতি ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা বাড়িয়ে ১৭ থেকে ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘এখন আবার কত ভাড়া বাড়বে, তার ঠিক নেই।’
বারীনগর পাইকারি মোকাম থেকে ঢাকায় সবজি পরিবহন করা ট্রাকের মালিক শেখ সাইরাস বলেন, ‘জ্বালানি তেলের সংকটের আগে আমার ৩ টন ধারণক্ষমতার ট্রাকের ভাড়া ছিল বারীনগর থেকে ঢাকা পর্যন্ত ১২ হাজার টাকা। এরপর সংকট শুরু হলে ৩ হাজার টাকা বাড়িয়ে ১৫ হাজার করা হয়। গতকাল জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর আরও দুই হাজার টাকা বাড়ানো হয়। আজ ২০ এপ্রিল ১৭ হাজার টাকা ভাড়ায় বারীনগর থেকে ঢাকায় গিয়েছি।’
পরিবহন পরিস্থিতি ও প্রভাব
ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা গেছে, যশোরের বারীনগর সবজির মোকাম থেকে আজ ১০ ট্রাক সবজি ঢাকা, বরিশাল, ভোলা, শরীয়তপুর, পটুয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়েছে। সাধারণত সপ্তাহের হাটের দিনে ২০ থেকে ৩০ ট্রাক সবজি পাঠানো হয়। ট্রাকভাড়ার এই বৃদ্ধি সরবরাহ শৃঙ্খলে প্রভাব ফেলতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের জন্য সবজির দাম বাড়িয়ে দিতে পারে।
এই পরিস্থিতি জ্বালানি তেলের সংকটের ব্যাপক প্রভাবকে তুলে ধরে, যা কৃষি ও পরিবহন খাতকে সরাসরি প্রভাবিত করছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের দ্রুত হস্তক্ষেপ কাঙ্ক্ষিত বলে মনে করা হচ্ছে, যাতে ব্যবসায়ী ও ভোক্তা উভয়েই এই সংকট থেকে রক্ষা পেতে পারে।



