বিদ্যুতের দাম বাড়ায় কমপ্যাক্ট ন্যাচারাল গ্যাসের (সিএনজি) সরবরাহ খরচ বেড়েছে বলে জানিয়েছে সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভারশন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির দাবি, এক দশক ধরে তাদের কমিশন অপরিবর্তিত থাকলেও এই সময়ে সাত দফায় বিদ্যুতের দাম বেড়েছে। অন্যান্য খরচও বেড়েছে। তাই প্রতি ঘনমিটার সিএনজি বিক্রি থেকে কমিশন বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে তারা।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি
শনিবার রাজধানীর বিজয়নগরের আকরাম টাওয়ারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা এই দাবি জানান। তারা বলেন, বর্তমানে প্রতি ঘনমিটার সিএনজির দাম ৪৩ টাকা। এতে স্টেশন পায় ৫ টাকা ৯৬ পয়সা কমিশন। ২০১৫ সালের পর বিদ্যুতের দাম বাড়লেও কমিশন আনুপাতিক হারে সমন্বয় করা হয়নি। ফলে পরিচালন খরচ বেড়েছে।
কমিশন বাড়ানোর যুক্তি
নেতারা বলেন, বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধির কারণে বর্তমান কমিশনের সঙ্গে আরও ২ টাকা ৪৬ পয়সা যোগ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি, শ্রমিক-কর্মচারীদের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার বৃদ্ধি ও যন্ত্রাংশের মূল্যবৃদ্ধির কারণে আরও ৩ টাকা ৫০ পয়সা সমন্বয় জরুরি। মোট কমিশন এখন ৮ টাকা বাড়িয়ে ১৩ টাকা ৯৬ পয়সা করার দাবি জানিয়েছে তারা।
পুরনো সুপারিশ বাস্তবায়ন হয়নি
সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ২০১৩ সালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় কমিশন ২ টাকা ৯৮ পয়সা বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। কিন্তু পরে মাত্র ১ টাকা কমিশন বাড়ানো হয়। বাকি ১ টাকা ৯৮ পয়সা দশকেও বাস্তবায়ন হয়নি।
স্টেশনমালিকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সড়ক ও জনপথ বিভাগের জমি ইজারা ফি, লাইসেন্স নবায়ন ব্যয়, যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ, কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, ব্যাংক গ্যারান্টি কমিশন ও সুদ, মূল্যস্ফীতি ও ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিচালন ব্যয় অস্বাভাবিক বেড়েছে। ফলে সরকারনির্ধারিত দামে গ্যাস বিক্রি করে অনেক স্টেশন লোকসানের মুখে পড়েছে এবং বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
এক দশকের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন কমিটি ও মন্ত্রণালয় দাবির যৌক্তিকতা স্বীকার করে সুপারিশ দিলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় সেগুলো বাস্তবায়িত হয়নি বলে নেতারা অভিযোগ করেন। তারা বলেন, সরকার পরিবর্তনের পরও জ্বালানি বিভাগ ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি।
সংগঠনটি ৩০ জুনের মধ্যে দাবি না মানলে ১ জুলাই থেকে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছে।



