মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির পর থেকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমছে। এর ধারাবাহিকতায় দেশে উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জ্বালানি তেল জেট ফুয়েলের দাম চলতি মাসে দ্বিতীয়বারের মতো কমেছে। এবার প্রতি লিটারে ৩৯ টাকা ৫৭ পয়সা কমেছে। এর আগে মাসের শুরুতে ২১ টাকা ৬৩ পয়সা কমানো হয়েছিল। যুদ্ধের কারণে মার্চ মাসে দুই দফায় ১০৭ টাকা এবং এপ্রিলে ২৪ টাকা ৭৯ পয়সা বেড়েছিল জেট ফুয়েলের দাম।
শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জেট ফুয়েলের নতুন দর ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন দর আজ দিবাগত রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে। গত বছরের মে মাস থেকে প্রতি মাসে দাম সমন্বয় করছে সংস্থাটি।
অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের নতুন দাম
বিইআরসির নতুন দর অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য জেট ফুয়েলের লিটারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬৫ টাকা ৮৮ পয়সা, যা আগে ছিল ২০৫ টাকা ৪৫ পয়সা। যুদ্ধ শুরুর আগে ফেব্রুয়ারিতে এ দাম ছিল ৯৫ টাকা ১২ পয়সা। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটারের দাম ১ দশমিক ৩৩৮৫ ডলার থেকে কমিয়ে ১ দশমিক ০৮২৩ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
যুদ্ধের প্রভাব ও দাম কমার কারণ
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে ইরানে আক্রমণের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। এরপর ইরান ওই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে হামলা শুরু করলে তেলসমৃদ্ধ ওই অঞ্চলের প্রায় পুরোটাতেই যুদ্ধ বিস্তৃত হয়। দুই পক্ষের হামলায় লক্ষ্যবস্তু হয় জ্বালানি স্থাপনাগুলো। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম অস্থির হয়ে উঠে। তবে সম্প্রতি শান্তি আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতির খবরে জ্বালানির দাম কমছে।
দাম নির্ধারণের এখতিয়ার বিইআরসির হাতে
আগে জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণ করত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। তবে নির্বাহী আদেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম নির্ধারণের ধারা অন্তর্বর্তী সরকার বাতিল করে দেয়। এরপর ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফার্নেস অয়েল, জেট এ-১-এর দাম নির্ধারণের এখতিয়ার বিইআরসিকে দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনের পর ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ প্রথমবারের মতো জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণে গণশুনানি গ্রহণ করে বিইআরসি। এর পর থেকে প্রতি মাসে দাম সমন্বয় করা হচ্ছে।



