বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তৃতীয় ইউনিট চালু, উৎপাদন ২৩৫ মেগাওয়াটে
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তৃতীয় ইউনিট চালু, উৎপাদন বেড়ে ২৩৫ মেগাওয়াটে

দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তৃতীয় ইউনিট দীর্ঘ ১৮ মাস ২০ দিন পর সচল হয়েছে। বুধবার (২০ মে) বিকাল ৫টা ৪৬ মিনিট থেকে ইউনিটটি বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করে। বর্তমানে কেন্দ্রটির ১২৫ মেগাওয়াটের প্রথম ইউনিট থেকে ৬৫ মেগাওয়াট এবং ২৭৫ মেগাওয়াটের তৃতীয় ইউনিট থেকে ১৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ মিলছে, মোট উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ২৩৫ মেগাওয়াটে। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন কেন্দ্রটির প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক।

ইউনিটের ইতিহাস ও সমস্যা

তৃতীয় ইউনিটটি ২০১৭ সালে স্থাপিত হয় এবং প্রায় আট বছর সচল থাকার পর ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যায়। অন্যদিকে, কেন্দ্রটি ২০০৬ সালে ১২৫ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও কখনোই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি। প্রথম দুটি ইউনিট মিলে সর্বোচ্চ ১৫০ মেগাওয়াট উৎপাদন করত, যা পরে কমে ১১০ মেগাওয়াটে দাঁড়ায়। ২০২০ সালে দ্বিতীয় ইউনিট পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে উৎপাদন ক্ষমতা ৮০-৯০ মেগাওয়াটে নেমে আসে।

নির্মাণে ত্রুটি ও অভিযোগ

সূত্রমতে, কেন্দ্রটির নির্মাণকালে নানা ত্রুটি ও বিচ্যুতি থাকা সত্ত্বেও চায়না মেশিনারিজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠান তড়িঘড়ি করে উৎপাদনে নিয়ে যায়। এছাড়া আমলা ও রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠে। তিন ইউনিট মিলে লক্ষ্যমাত্রা ৫২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন হলে কয়লার ব্যবহার নিশ্চিত হতো, যার প্রয়োজন হতো ২৪ ঘণ্টায় ৫ হাজার ২০০ টন। কিন্তু বর্তমানে দুটি ইউনিট চালু থাকায় কয়লার ব্যবহার বাড়বে এবং প্রতিদিন গড়ে সাড়ে তিন হাজার টন কয়লা প্রয়োজন হবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

কয়লা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ আলম জানান, খুব দ্রুত কোল ইয়ার্ড সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করা হবে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ উৎপাদিত কয়লা অন্যত্র সংরক্ষণ এবং খোলা বাজারে কিছু কয়লা বিক্রির নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া নিকটস্থ প্ল্যান্টে আরেকটি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করায় কয়লার ব্যবহার আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ