জিডিপি গণনায় নতুন ভিত্তি বছর নির্ধারণ, অর্থনীতির আকার আরও বড় হবে
দেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি গণনার ভিত্তি বছর পরিবর্তন করা হচ্ছে আগামী অর্থবছর থেকে। নতুন ভিত্তি বছর হিসাবে নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৫-২৬ অর্থবছর। এতে দেশের অর্থনীতির পরিসংখ্যানগত আকার আরও বড় হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সেমিনারে নতুন ভিত্তি বছরের ঘোষণা
সোমবার (১৩ এপ্রিল) আগারগাঁওয়ের জাতীয় পরিসংখ্যান ভবনে জিডিপি গণনা বিষয়ক এক সেমিনারে এই তথ্য জানানো হয়েছে। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর উপপরিচালক তোফায়েল আহমেদ সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ
তোফায়েল আহমেদ বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সাধারণত প্রতি ১০ বছর পরপর জিডিপির ভিত্তি বছর হালনাগাদ করা হয়। এরই অংশ হিসেবে নতুন অর্থবছর থেকে ভিত্তি বছর পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ভিত্তি বছর পরিবর্তনের সময় অর্থনীতিতে নতুনভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে এমন খাতগুলো যোগ করা হয়। একইসাথে যেসব খাতের গুরুত্ব কমে গেছে বা যেগুলো আর অর্থনীতিতে অবদান রাখছে না, সেগুলো পরিসংখ্যান থেকে বাদ দেওয়া হয়।
জমি ক্রয় জিডিপিতে বিনিয়োগ নয়
সেমিনারে জিডিপি গণনার পদ্ধতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তোফায়েল আহমেদ বলেন, জমি ক্রয় বড় বিনিয়োগ বলে মনে হতে পারে, কিন্তু জিডিপিতে এটিকে বিনিয়োগ হিসেবে গণ্য করা হয় না। কারণ এতে নতুন উৎপাদন সৃষ্টি হয় না, কেবল মালিকানার পরিবর্তন ঘটে।
নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্তের ওপর জোর
জোনায়েদ সাকি বলেন, তথ্য-উপাত্ত অবশ্যই নির্ভরযোগ্য হতে হবে। তিনি বলেন, “কোনো গুজব থাকা উচিত নয়। বর্তমান সরকার নির্দেশ দিয়ে কোনো তথ্য-উপাত্ত তৈরি করতে চায় না। দেশের অর্থনীতি নির্ভুল তথ্য-উপাত্তের ওপর গড়ে উঠতে হবে।” তিনি আরও বলেন, দেশের উন্নয়নশীল অর্থনীতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
অর্থনৈতিক কাঠামোর বাস্তব চিত্র
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক মো. ফরহাদ সিদ্দিকী বলেন, জিডিপি গণনা পদ্ধতি ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের অবহিত করতেই এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন ভিত্তি বছর ব্যবহার করে দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোর আরও বাস্তবসম্মত চিত্র পাওয়া যাবে।
নতুন ভিত্তি বছর নির্ধারণের এই সিদ্ধান্ত দেশের অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানকে আন্তর্জাতিক মানের কাছাকাছি নিয়ে যাবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এতে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের প্রকৃত অবদান সঠিকভাবে প্রতিফলিত হবে এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণে সহায়ক হবে।



