আগামী ১১ জুন জাতীয় বাজেট উপস্থাপন, কর কমানোর প্রস্তাব ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দ্বিধা
আগামী ১১ জুন বাজেট উপস্থাপন, কর কমানোর প্রস্তাব ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দ্বিধা

আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ এই বাজেটকে ঘিরে ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, করদাতা, স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

বাজেটের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা

অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এবার বাজেটে একদিকে যেমন কিছু খাতে কর ছাড় ও বিনিয়োগ প্রণোদনা দেওয়া হতে পারে, অপরদিকে রাজস্ব বাড়াতে তামাক ও অ্যালকোহলজাত পণ্যের ওপর শুল্ক বৃদ্ধির পরিকল্পনাও রয়েছে।

চিনিযুক্ত পণ্যে কর কমানোর প্রস্তাব

আগামী বাজেটে চিনিযুক্ত পানীয় ও খাদ্যপণ্যের ওপর আরোপিত ন্যূনতম টার্নওভার কর ৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব বিবেচনা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বর্তমানে কোনও প্রতিষ্ঠানের মুনাফা হোক বা লোকসান, বিক্রির ওপর নির্দিষ্ট হারে কর দিতে হয়। ন্যূনতম টার্নওভার কর নামে পরিচিত এই ব্যবস্থার কারণে কম মুনাফার প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও উল্লেখযোগ্য করের চাপ তৈরি হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন, এ খাতে করের বোঝা অনেক বেশি। তাদের মতে, করপোরেট কর ও ন্যূনতম কর মিলিয়ে অনেক প্রতিষ্ঠানের কার্যকর করহার ৪৩ থেকে ৫৪ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে। কোকা-কোলা সিসিআই বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাদাব আহমেদ খান বলেন, উচ্চ করহার ব্যবসা সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ এবং ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন বিনিয়োগ পরিকল্পনা স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়েছে।

শিল্পসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশের কার্বনেটেড কোমল পানীয় বাজারের আকার ছিল প্রায় ৬ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। দুই বছরের ব্যবধানে তা কমে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৫ হাজার ২০১ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের বিরোধিতা

তবে কর কমানোর প্রস্তাবের বিরোধিতা করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রুমানা হকের মতে, দেশে ডায়াবেটিস, স্থূলতা ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে। এ অবস্থায় চিনিযুক্ত পণ্যের ওপর কর কমানোর পরিবর্তে আরও বেশি পণ্যকে করের আওতায় আনা এবং সম্পূরক শুল্ক বাড়ানো উচিত। তার ভাষ্য, সরকারের নীতিনির্ধারণে শুধু রাজস্ব নয়, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন।