বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার কমলেও আয় বৈষম্য বেড়েছে। ২০২২ সালে দেশে দারিদ্র্যের হার ছিল ১৮.৭ শতাংশ, যা ২০২৪ সালে কমে ১৭.১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে একই সময়ে আয় বৈষম্যের সূচক (গিনি সহগ) ০.৪৮২ থেকে বেড়ে ০.৪৯৭ হয়েছে।
দারিদ্র্য হ্রাসের কারণ
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও প্রবৃদ্ধি দারিদ্র্য কমাতে ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় দারিদ্র্য হ্রাস উল্লেখযোগ্য। ২০২২ সালে গ্রামীণ দারিদ্র্যের হার ছিল ২০.৫%, যা ২০২৪ সালে ১৮.১% হয়েছে। শহরাঞ্চলে এই হার ১৪.৭% থেকে কমে ১৩.৮% হয়েছে।
বৈষম্য বৃদ্ধির চিত্র
তবে আয় বৈষম্য বেড়েছে। ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে ব্যবধান বেড়েছে। শীর্ষ ১০% মানুষের আয়ের অংশ ২০২২ সালে ৩৬.১% থেকে বেড়ে ২০২৪ সালে ৩৭.২% হয়েছে। নিম্ন ৪০% মানুষের আয়ের অংশ ১৭.৮% থেকে কমে ১৭.১% হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের মতামত
বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদুল্লাহ আল হাসান বলেন, “দারিদ্র্য হ্রাসে বাংলাদেশ ভালো করছে, কিন্তু বৈষম্য কমাতে আরও নীতি গ্রহণ করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় বিনিয়োগ বাড়ালে বৈষম্য কমানো সম্ভব।”
সরকারের পদক্ষেপ
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা বৈষম্য কমাতে কাজ করছে। পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, “সরকার সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী সম্প্রসারণ করছে। আমরা চাই সবাই উন্নয়নের সুফল পাক।”
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈষম্য কমাতে কর নীতি সংস্কার ও মানবসম্পদ উন্নয়নে জোর দিতে হবে। বিশেষ করে নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি জরুরি।



