জাতীয় সংসদে প্রথম ত্রৈমাসিক বাজেট প্রতিবেদন: রাজস্ব আয়ে ১৭.৭% বৃদ্ধি, রিজার্ভে ইতিবাচক অগ্রগতি
প্রথম ত্রৈমাসিক বাজেট প্রতিবেদন: রাজস্ব আয়ে ১৭.৭% বৃদ্ধি

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আজ ৬ এপ্রিল জাতীয় সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ত্রৈমাসিক (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বাজেট বাস্তবায়ন অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছেন। এই প্রতিবেদনে বৈশ্বিক ও দেশীয় চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও আয় বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভে উন্নতি এবং ধীরে ধীরে ম্যাক্রোইকোনমিক স্থিতিশীলতার দিকে অগ্রসর হওয়ার বিষয়গুলো বিশদভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।

প্রথম ত্রৈমাসিকের অর্থনৈতিক সূচক

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রথম ত্রৈমাসিকে মোট রাজস্ব আয় ১৭.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের ৪.৪ শতাংশ বৃদ্ধির তুলনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নির্দেশ করে। সরকারি মোট ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে ১০ শতাংশ, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে এই হার ছিল ১৪ শতাংশ।

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির অগ্রগতি

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন প্রথম ত্রৈমাসিকে মোট বরাদ্দের ৪.৫৮ শতাংশে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের ৩.৯৭ শতাংশের চেয়ে বেশি। এই উন্নতি উন্নয়ন কার্যক্রমের গতিশীলতা প্রতিফলিত করে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ ও রপ্তানি-আমদানি

অর্থমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ২৪.৮৬ বিলিয়ন ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩১.৪৩ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। এই বৃদ্ধি দেশের বাহ্যিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ইতিবাচক দিক নির্দেশ করে।

প্রথম ত্রৈমাসিকে রপ্তানি আয় ৫.২৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, অন্যদিকে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে ৯.৪৯ শতাংশ। একই সময়ে মূল্যস্ফীতি ৯.৪৫ শতাংশে অবস্থান করছে, যা আগের বছরের ৯.৯৭ শতাংশের তুলনায় কিছুটা কম।

চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা

অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সঙ্কট ও বৈশ্বিক রাজনৈতিক উত্তেজনা রপ্তানিতে প্রভাব ফেলেছে। তবে দেশের অর্থনীতি সংস্কার উদ্যোগ, নীতি সমন্বয় এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধির মাধ্যমে ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার দিকে এগোচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে শুল্ক বাধা, প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি, উচ্চ সুদের হার এবং অভ্যন্তরীণ সীমাবদ্ধতা রপ্তানি, বেসরকারি খাতের ঋণ বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগে চাপ সৃষ্টি করছে। এছাড়াও রাজস্ব আহরণে কিছু ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

মুদ্রাস্ফীতি ও ঋণ সহায়তা

মুদ্রাস্ফীতি প্রত্যাশিত হারে কমছে না, যা সরবরাহ শৃঙ্খল সীমাবদ্ধতা, বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং বহিরাগত প্রভাবের কারণে হয়েছে। তবে কৃষি, রপ্তানিমুখী শিল্প এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য লক্ষ্য ভিত্তিক ঋণ সহায়তা অব্যাহত আছে।

অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের কৌশল

অর্থমন্ত্রী বলেছেন, শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা, প্রচুর শ্রমশক্তি এবং উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধিই অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে সহায়তা করছে। তিনি নীতি ধারাবাহিকতা, প্রতিষ্ঠান সক্ষমতা বৃদ্ধি, সুশাসন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, রপ্তানি বৈচিত্র্য এবং প্রযুক্তি ভিত্তিক উৎপাদনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

ভবিষ্যতের লক্ষ্য

অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন যে, বাংলাদেশ সব চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে। সমন্বিত প্রচেষ্টা ও বাস্তবসম্মত সংস্কার কর্মসূচির মাধ্যমে ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশ এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরিত হবে। এই লক্ষ্য অর্জনে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

প্রতিবেদনটি জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের মাধ্যমে সরকারের অর্থনৈতিক নীতির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়েছে। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও বাংলাদেশের অর্থনীতি ইতিবাচক গতিধারায় অগ্রসর হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।