মন্ত্রিসভার বৈঠকে বাজেট সংক্রান্ত অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তরের অনুমোদন
২০২৪-২৫ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেট সংক্রান্ত দু’টি অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করার প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার তৃতীয় বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সাংবাদিকদের সামনে এই তথ্য নিশ্চিত করেন এবং বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেন।
সম্পূরক বাজেট অধ্যাদেশের আইনি রূপান্তর
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি উল্লেখ করেন যে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট সংক্রান্ত ‘নির্দিষ্টকরণ (সম্পূরক) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ আইনে পরিণত করার প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে। সংবিধানের ৯১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো অর্থবছরে অনুমোদিত ব্যয় অপর্যাপ্ত হলে বা নির্ধারিত সীমার বেশি ব্যয় হলে সম্পূরক আর্থিক বিবৃতি জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করতে হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়ায় নির্ধারিত সময়ে তা উপস্থাপন সম্ভব হয়নি, যা একটি জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিল।
এই পরিস্থিতিতে সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অধ্যাদেশ জারি করে, যা এখন আইনে রূপ দিতে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়াটি সরকারের আইনি ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটের অনুমোদন
এছাড়া, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট সংক্রান্ত ‘নির্দিষ্টকরণ অধ্যাদেশ, ২০২৫’ আইনে পরিণত করার প্রস্তাবও মন্ত্রিসভার অনুমোদন পেয়েছে। সংবিধানের ৮৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রতি অর্থবছরের আয়-ব্যয়ের বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি সংসদে উপস্থাপন করার কথা থাকলেও সংসদ না থাকায় তা সম্ভব হয়নি। একই কারণে ৯৩ অনুচ্ছেদের অধীনে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল, যা এখন আইনে পরিণত করা হচ্ছে।
এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সরকারের আর্থিক ও বাজেটীয় কার্যক্রমের নিরবচ্ছিন্নতা নিশ্চিত করা হয়েছে, যা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। মন্ত্রিসভার এই অনুমোদন দেশের আইনি কাঠামোতে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, বিশেষ করে সংসদীয় ব্যবস্থার অনুপস্থিতিতে সরকারের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে।
