বাজেট হবে জনগণের কল্যাণে, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর জন্য নয়: অর্থমন্ত্রী
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ভবিষ্যতের বাজেট আর কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে খুশি করার জন্য তৈরি হবে না। বরং এটি হবে সম্পূর্ণরূপে জনগণের কল্যাণে, যাতে সাধারণ মানুষ সরাসরি সুবিধা পেতে পারে।
চট্টগ্রাম সফরে অর্থমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা
শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অর্থমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো নিজ নির্বাচনী এলাকা চট্টগ্রাম সফরে আসেন। সকাল ১১টায় তিনি চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান, যেখানে দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে উষ্ণ সংবর্ধনা জানান।
এরপর তিনি নগরের পাহাড়তলী থানার উত্তর কাট্টলীর নাজির বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে গিয়ে মা-বাবার কবর জিয়ারত করেন। সেখানেই সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি তার বাজেট সংক্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাখ্যা করেন।
পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতি বন্ধের অঙ্গীকার
অর্থমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, 'কোনো পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতি আর চলবে না। বাজেট হবে সম্পূর্ণ জনবান্ধব।' তিনি আরও উল্লেখ করেন যে বিগত সরকারের আমলে প্রচুর ঋণ নেওয়া হলেও তা কোনো ভালো প্রকল্পে ব্যয় হয়নি। ফলে বর্তমান সরকারের ওপর বিশাল ঋণের বোঝা চেপে বসেছে।
শেয়ার বাজার ও বিনিয়োগের পরিকল্পনা
শেয়ার বাজারের অবস্থা নিয়ে অর্থমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, 'শেয়ার বাজার নিয়ে সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসবে।'
তিনি বাণিজ্যিক রাজধানী গড়ে তোলার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম আরও উন্নত ও গতিশীল করতে হবে, বিনিয়োগ বাড়াতে হবে এবং সেইসঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টির দিকেও নজর দিতে হবে।
কর্মসংস্থান সৃষ্টির উপায়
কর্মসংস্থান সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, 'বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো কর্মসংস্থানের অভাব। এই সমস্যা দূর করতে হলে উৎপাদন ও বিনিয়োগ বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।'
গণতান্ত্রিক পরিবেশে ফিরে আসার অনুভূতি
দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম চট্টগ্রাম সফরের অনুভূতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'ভালো লাগছে। আমরা আবার গণতান্ত্রিক পরিবেশে ফিরে এসেছি। এখন নির্বাচিত সংসদ ও সরকার আছে। দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।'
সফরের বাকি কর্মসূচি
অর্থমন্ত্রীর দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে ছিল:
- বেলা আড়াইটা থেকে তিনটা পর্যন্ত নগরের মেহেদিবাগে নিজ বাসভবনে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও কুশল বিনিময়।
- বিকেল তিনটায় চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম গতিশীল করার জন্য বন্দর সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ।
- রাত ৮টা ২৫ মিনিটে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ফিরে যাওয়া।
এই সফরে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং জনগণের কল্যাণে বাজেট প্রণয়নের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন, যা দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত বলে বিবেচিত হচ্ছে।
