বাংলাদেশের নিটওয়্যার খাতে উদ্ভাবনী ক্ষমতা বাড়াতে বিএমইএ ও টিআইই-এর সমঝোতা স্মারক
নিটওয়্যার খাতে উদ্ভাবনী ক্ষমতা বাড়াতে বিএমইএ ও টিআইই-এর চুক্তি

বাংলাদেশের নিটওয়্যার খাতে উদ্ভাবনী ক্ষমতা বাড়াতে বিএমইএ ও টিআইই-এর সমঝোতা স্মারক

বাংলাদেশের নিটওয়্যার খাতের উদ্ভাবন-চালিত ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি এবং টেক্সটাইল ইনোভেশন এক্সচেঞ্জ বুধবার ঢাকার বিএমইএ কার্যালয়ে একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির মাধ্যমে বিএমইএ আনুষ্ঠানিকভাবে টিআইই-এর বিভিন্ন ফ্ল্যাগশিপ প্রোগ্রামের ‘ইন অ্যাসোসিয়েশন পার্টনার’ হিসেবে যুক্ত হয়েছে।

চুক্তির মাধ্যমে যুক্ত হওয়া প্রোগ্রামসমূহ

এই অংশীদারিত্বের আওতায় বিএমইএ নিম্নলিখিত গুরুত্বপূর্ণ প্রোগ্রামগুলোর সাথে সংযুক্ত হবে:

  • পার্টনারশিপ ফর ইমপ্লিমেন্টেশন অব ইনোভেশন সার্কেলস
  • টেক্সটাইল ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ডস
  • টেক্সটাইল ইনোভেশন এক্সপো
  • বার্ষিক আন্তর্জাতিক গবেষণা সম্মেলন

স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বিএমইএ-এর পক্ষ থেকে সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম ও নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামিম এহসান উপস্থিত ছিলেন। টেক্সটাইল ইনোভেশন এক্সচেঞ্জের পক্ষে চেয়ারম্যান প্রকৌশলী এহসানুল করিম কায়সার ও সদস্য সচিব প্রকৌশলী এএসএম তারেক আমিন অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও টিআইই-এর কৌশলগত ও প্রতিবেদন প্রধান এনামুল হাফিজ লতিফি এবং টেক্সটাইল টুডে ইনোভেশন হাবের আমজাদ হোসেন মনির অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বিএমইএ সচিবালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তারাও এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উদ্ভাবন-মনস্ক সংস্কৃতি গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা

উভয় পক্ষ পোশাক ও টেক্সটাইল খাতে একটি উদ্ভাবন-মনস্ক সংস্কৃতি গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছেন। তারা একমত হয়েছেন যে সাশ্রয়ী মূল্যের শ্রম, শক্তি ও সম্পদের হ্রাসপ্রাপ্ত প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান বজায় রাখতে উদ্ভাবনকে একটি মূল চালিকা শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা অত্যাবশ্যক।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এই অংশীদারিত্বের মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ

এই চুক্তির মাধ্যমে নিম্নলিখিত কার্যক্রমগুলো বাস্তবায়ন করা হবে:

  1. বিস্তৃত যোগাযোগ বৃদ্ধি: বিএমইএ তার সদস্যদের মধ্যে যোগাযোগ ও সম্প্রসারণ বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে, যা ২,৫০০-এরও বেশি নিটওয়্যার কারখানার প্রতিনিধিত্ব করে।
  2. পেশাদার অংশগ্রহণ: টিআইই-এর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও উদ্ভাবন বাস্তবায়ন প্রোগ্রামে পেশাদার অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করা হবে।
  3. যৌথ আয়োজনের সুবিধা: যৌথভাবে আয়োজিত অনুষ্ঠানের জন্য ভেন্যু সরবরাহ করা হবে।
  4. প্রশিক্ষণ ও কাঠামো উন্নয়ন: শিল্প-সম্পর্কিত প্রশিক্ষণ, উদ্ভাবন পদ্ধতি ও স্বীকৃতি কাঠামো উন্নয়ন করা হবে।

এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো পোশাক খাতকে খরচ-ভিত্তিক সক্ষমতা থেকে উদ্ভাবন-চালিত ও প্রমাণ-ভিত্তিক উন্নত কর্মক্ষমতা খাতে রূপান্তর করা। প্রতিবছর নিটওয়্যার খাতের ৬০০ থেকে ৮০০ মধ্যম ও উচ্চস্তরের পেশাদারকে সমস্যা সমাধান ও ধারাবাহিক উন্নয়নের দক্ষতা অর্জনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

ফলস্বরূপ, বাংলাদেশ উদ্ভাবন-সক্ষম টেক্সটাইল ও পোশাক প্রস্তুতকারক দেশ হিসেবে বৈশ্বিক মানচিত্রে একটি শক্তিশালী অবস্থান নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে। এই অংশীদারিত্ব শিল্পের টেকসই উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও মজবুত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।