শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু: শুক্রবার জাপানের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু করার বিষয়ে জাপানি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সরকারের দ্বিতীয় দফার উচ্চপর্যায়ের বৈঠক আগামী শুক্রবার (৩ এপ্রিল) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত হবে। এ বৈঠক থেকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে
জানা গেছে, জাপানি কনসোর্টিয়ামের সংশোধিত ও কম খরচের প্রস্তাব জমা দেওয়ার পর টার্মিনালের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত চুক্তি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, কনসোর্টিয়াম সার্ভিস চার্জ, অপারেশনাল নিয়ন্ত্রণ এবং রাজস্ব ভাগাভাগি বিষয়ে আর্থিক প্রস্তাব পুনঃসমন্বয়ের মাধ্যমে আগের আপত্তিগুলো অনেকটাই দূর হয়েছে।
কারিগরি বৈঠকের অগ্রগতি
এর আগে সোমবার (৩০ মার্চ) ও মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বেবিচক সদর দফতরে ধারাবাহিক কারিগরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসব বৈঠকে উভয় পক্ষ মূল্য নির্ধারণ ও পরিচালন কাঠামো নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করে। এ বৈঠক আলোচনা নীতিগত পর্যায় থেকে চূড়ান্ত পর্যায়ে অগ্রসর হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। বুধবার (১ এপ্রিল) বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা এবং প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে বৈঠকের অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করেন।
উচ্চপর্যায়ের উপস্থিতি
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, শুক্রবারের বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত থাকবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামসহ অন্যরা। বেবিচক চেয়ারম্যান আশা প্রকাশ করেছেন, এ বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। তিনি বলেন, “৩ এপ্রিলের বৈঠকের পর আগামী সপ্তাহেই চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”
টার্মিনালের বর্তমান অবস্থা
উল্লেখ্য, তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণকাজ ৯৯ শতাংশের বেশি সম্পন্ন হলেও পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে এটি এখনও চালু করা যায়নি। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দ্রুত আলোচনা পুনরায় শুরু করার নির্দেশ দেন। এ নির্দেশনার ফলে গত ১৩ মার্চ অনুষ্ঠিত বৈঠকে অগ্রগতি হয় এবং জাপানি পক্ষকে সংশোধিত প্রস্তাব জমা দিতে অনুরোধ জানানো হয়।
জাপানি কনসোর্টিয়ামের সংশোধিত প্রস্তাব
জাপানি কনসোর্টিয়ামে রয়েছে জাপান এয়ারপোর্ট টার্মিনাল কোম্পানি, সুমিতোমো করপোরেশন, সোজিৎজ করপোরেশন এবং নারিতা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট করপোরেশন। তারা ইতোমধ্যে সংশোধিত প্রস্তাব জমা দিয়েছে, যেখানে ব্যয় কমানো হয়েছে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে ব্যবধান কমেছে। প্রায় ২১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি (জাইকা)। প্রায় ৫ লাখ ৪২ হাজার বর্গমিটার আয়তনের এ টার্মিনালটি বছরে অতিরিক্ত ১ কোটি ২০ লাখ থেকে ১ কোটি ৬০ লাখ যাত্রী এবং প্রায় ৯ লাখ টন কার্গো পরিবহনের সক্ষমতা নিয়ে নির্মিত।
বিলম্বের প্রভাব ও সমাধানের পথ
টার্মিনাল চালুতে বিলম্বের কারণে বর্তমানে বিমানবন্দরে যাত্রীচাপ, স্লট সংকট এবং সেবার মান নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন প্রস্তাবে নমনীয়তা থাকায় একটি ‘উইন-উইন’ সমাধানের পথে এগোনো সম্ভব হয়েছে এবং চুক্তি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এ বিষয়ে আরও বিশদ তথ্য শুক্রবারের বৈঠকের পর প্রকাশিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।



