রাজস্ব স্ট্রিট ফুডকে ভ্যাটের আওতায় আনার দাবি রেস্তোরাঁ মালিকদের
স্ট্রিট ফুডে ভ্যাট ও নীতি বৈষম্য দূরের দাবি

রাজস্ব স্ট্রিট ফুডকে ভ্যাটের আওতায় আনার দাবি

হোটেল-রেস্তোরাঁর মালিকরা নীতি বৈষম্যের শিকার। একই প্রকৃতির ব্যবসা করেও স্ট্রিট ফুড কোর্ট ভ্যাট দেয় না। সরকারি কোনো সংস্থা এদের নজরদারি করে না। আবার ক্যাটারিং সেবা ও রেস্তোরাঁর ব্যবসা প্রকৃতি এক হলেও ক্যাটারিং সেবাকে প্রায় তিন গুণ ভ্যাট দিতে হয়।

শুক্রবার পুরানা পল্টনে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই বৈষম্য দূর করার দাবি জানান সংগঠনটির নেতারা। সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনটির মহাসচিব ইমরান হাসান।

বাজেটে রেস্তোরাঁ খাতকে গুরুত্ব না দেওয়ার অভিযোগ

লিখিত বক্তব্যে ইমরান হাসান বলেন, বিদ্যমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ব্যাংক খাতের সংকটের মধ্যেও সরকার ব্যবসাবান্ধব বাজেট প্রণয়নের চেষ্টা করেছে। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে ধন্যবাদ জানাই। তবে এলপিজি ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে রেস্তোরাঁ খাতের পরিচালন ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে, যা এই খাতকে গভীর সংকটে ফেলেছে। এ সংকট থেকে উত্তরণে এই খাতকে বাজেটে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভ্যাট বৈষম্য ও স্ট্রিট ফুডকে আওতায় আনার প্রস্তাব

ইমরান হাসান বলেন, বর্তমানে রেস্তোরাঁ খাতে ৫ শতাংশ এবং ক্যাটারিং সার্ভিসে ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়। এই বৈষম্য দূর করতে হবে। ভ্যাটের তারতম্যের কারণে ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতায় বৈষম্য সৃষ্টি হয়। এর পাশাপাশি স্ট্রিট ফুডসহ সব প্রকার রেস্তোরাঁকে ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। এতে চলমান অসম প্রতিযোগিতা বন্ধ হবে এবং সরকারের রাজস্ব আয় অনেকটা বৃদ্ধি পাবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

একীভূত কমপ্লায়েন্স ও ওয়ান স্টপ সার্ভিসের দাবি

তিনি বলেন, বর্তমানে একটি রেস্তোরাঁ পরিচালনার জন্য একাধিক দপ্তর থেকে ১০-১২টি অনুমোদন নিতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। ফলে ব্যবসা পরিচালনা এবং কার্যকর তদারকি উভয়ই বাধাগ্রস্ত হয়। তাই রেস্তোরাঁ খাতকে একটি সমন্বিত কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থার আওতায় এনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি একটি ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালুর প্রস্তাব দেন তিনি।

হোটেল-রেস্তোরাঁ শিল্পের জন্য পৃথক শিল্পনীতি ঘোষণার দাবি

হোটেল-রেস্তোরাঁ শিল্পের জন্য শিল্পনীতি ঘোষণার দাবি জানিয়ে ইমরান হাসান বলেন, একটি পৃথক শিল্পনীতি প্রণয়ন করা হলে লাইসেন্সিং, কর ও ভ্যাট ব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগ, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং উদ্যোক্তা সহায়তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনা সম্ভব হবে। বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার পৃথক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কারণে উদ্যোক্তারা জটিলতা ও অতিরিক্ত ব্যয়ের সম্মুখীন হচ্ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সহ-সভাপতি শাহ সুলতান খোকন, যুগ্ম মহাসচিব ফিরোজ আলম সুমন, সাংগঠনিক সম্পাদক তৌফিকুর ইসলামসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।