ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী হারুন-আল-রশিদের তিন দিনের শোক
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাবেক প্রতিমন্ত্রীর তিন দিনের শোক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট হারুন-আল-রশিদের মৃত্যুতে তিন দিনের শোক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে জেলা বিএনপি। শুক্রবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ পরিচালনা করেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের পেশ ইমাম কারি মো. আবু রায়হান।

জানাজার সময়সূচি

বাদআসর নয়াপল্টনে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। শনিবার বাদজোহর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নিয়াজ মোহাম্মদ স্টেডিয়ামে তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

শোক কর্মসূচি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামসুজ্জামান চৌধুরী কানন স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুক্রবার থেকে আগামী তিন দিন জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থকসহ সর্ব সাধারণের কালো ব্যাজ ধারণ, দলীয় কার্যালয় ও মরহুমের বাসভবনে কালো পতাকা উত্তোলন, দিনব্যাপী মরহুমের বাসভবনে কোরআন খতম এবং বাদজুমা জেলা ও উপজেলার সব মসজিদে দোয়া ও প্রার্থনা করা হবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জানাজায় বক্তব্য

শুক্রবার জাতীয় সংসদে জানাজার শুরুতেই মরহুমের সংক্ষিপ্ত জীবনী পাঠ করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুব। এ সময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম, ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সংসদের চিফ হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, বিরোধী দলীয় নেতার পক্ষে ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন ও পরিবারের পক্ষে মরহুমের ভাতিজা কামাল হোসেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্পিকার তার বক্তব্যে বলেন, হারুন আল রশিদ একজন বিশিষ্ট পার্লামেন্টারিয়ান ছিলেন এবং পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি ব্যক্তিজীবনে অমায়িক, সজ্জন সাধারণ মানুষের জন্য নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আস্থাভাজন ছিলেন। তার মৃত্যুতে দেশ একজন জাতীয়তাবাদী ঘরানার নিবেদিতপ্রাণ দেশপ্রেমিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে হারিয়েছে।

ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, হারুন আল রশিদ একজন অত্যন্ত প্রজ্ঞাবান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। সততা ও নিষ্ঠার জন্য তার জীবনাদর্শ আমাদের জন্য অনুকরণীয়। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে তার অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য।

মৃত্যু ও জীবনী

হারুন আল রশিদ বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকার বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। তিনি বেশ কিছুদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। সর্বশেষ তিনি কয়েক দিন লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, ১ কন্যা, জামাতা, পুত্রবধূ, দুই ভাইসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন রেখে গেছেন।

অ্যাডভোকেট হারুন আল রশীদ ১৯৩৯ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নাটাই দক্ষিণ ইউনিয়নের নরসিংসার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মৌলভীপাড়ার নিজ বাসভবনে বসবাস করতেন। তার পিতার নাম মরহুম আব্দুল বারিক মোক্তার।

অত্যন্ত মেধা, প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতা দিয়ে তিনি আইন পেশা থেকে রাজনীতিতে এসে জাতীয়ভাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সর্বজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি ও গণমানুষের নেতা।

রাজনৈতিক জীবন

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী অ্যাডভোকেট হারুন আল রশিদ ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসন থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসন থেকে নির্বাচিত হন।

সংসদ সদস্য থাকাকালে তিনি জাতীয় সংসদের হুইপ ও পরে চিফ হুইপ নির্বাচিত হন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রথম মন্ত্রিসভায় তিনি ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান। পরবর্তীতে তিনি নৌ-পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

অ্যাডভোকেট হারুন-আল রশিদ বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির সাবেক চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিএনপির নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

তার মৃত্যুতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাব। পৃথক পৃথক শোকবার্তায় নেতারা মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।