লালমনিরহাট সদর ও রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী হরিণচওড়া মাঝের চরে আশার বার্তা নিয়ে পৌঁছান রংপুর বন্ধুসভার বন্ধুরা। চারদিক পানিতে থই থই, পানি কমলেই শুরু হতে পারে নদীভাঙন। যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নৌকা। এমন দুর্যোগের মধ্যেও গত ৩০ জুন বেলা ১১টায় চরের আলোর পাঠশালার শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় মসজিদ ও চরবাসীর মধ্যে ফলদ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
বন্যার পর পাঠশালায় শিক্ষার্থীদের সমাগম
বন্যার কারণে কিছুদিন বন্ধ থাকার পর আলোর পাঠশালায় আবারও শিক্ষার্থীদের সমাগম ঘটে। অনেক শিক্ষার্থী কোমরসমান পানি পেরিয়ে নৌকা দিয়ে ক্লাসে আসে। শুরুতে রংপুর বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম শিশুদের ক্লাস নেন। তিনি অক্ষরজ্ঞান ও কবিতা পাঠের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে গাছের গুরুত্ব ও পরিচর্যার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
শিক্ষার্থীদের হাতে গাছ রোপণ
ক্লাস শেষে শিক্ষার্থীরা নিজেদের হাতে রাস্তার ধারে বনজ গাছ রোপণ করে। এ সময় তাদের সহযোগিতা করেন বন্ধুসভার সদস্য ও আলোর পাঠশালার শিক্ষকেরা। পরে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় মসজিদ ও চরবাসীর মধ্যে গাছের চারা বিতরণ করা হয়। রোপণের পর গাছ সুরক্ষিত রাখতে প্রতিটি গাছে খুঁটি দেওয়া হয়। এ কার্যক্রমে স্থানীয় বাসিন্দারাও আগ্রহের সঙ্গে অংশ নেন।
গাছ হাতে পেয়ে শিশুদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেককে কাঁধে গাছ নিয়ে বাড়ি ফিরতে দেখা যায়। শিক্ষার্থী জেসমিন আনন্দ প্রকাশ করে বলে, ‘এই আমগাছ দুটি বাড়ির উঠানে লাগামু। বেড়া দিমু, পানি দিমু, আম হইলে আম খামু।’
শিক্ষক ও স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
আলোর পাঠশালার শিক্ষক মোরশেদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রথম আলো বন্ধুসভা শুধু পাঠশালা পরিচালনাই করছে না; নিয়মিত শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, শিশুদের সচেতনতামূলক কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ রক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার কাজও করছে। আজ তারা শিক্ষার্থী, স্থানীয় মসজিদ ও চরবাসীর মধ্যে গাছের চারা বিতরণ করেছে। আমরা বিশ্বাস করি, এ ধরনের উদ্যোগ শিশুদের ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বন্ধুসভা আজ আলোর পাঠশালার শিশু, মসজিদ ও চরবাসীর মধ্যে গাছের চারা বিতরণ করেছে। এমন উদ্যোগে আমরা খুবই আনন্দিত। ভবিষ্যতেও তারা এভাবেই আমাদের পাশে থাকবে, এটাই প্রত্যাশা।’
৫০০ চারা রোপণ ও বিতরণ
রংপুর বন্ধুসভার বন্ধুরা জানান, এদিন হরিণচওড়া চরে মোট ৫০০টি ফলদ ও বনজ গাছ রোপণ ও বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ছিল আম, মেহগনি, কড়ই ও নিম। ভবিষ্যতেও পরিবেশ সংরক্ষণ ও সামাজিক উন্নয়নে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।



