কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের ১৩টি দানের সিন্দুক খুলে এবার অন্তত ৪৩ বস্তা টাকা, বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালংকার পাওয়া গেছে। প্রায় ছয় মাস পর আজ শনিবার সকাল ৭টায় দানের সিন্দুকগুলো খোলা হয়। বর্তমানে চলছে টাকা গণনার কাজ। মসজিদ কর্তৃপক্ষের আশা, এবার দানের পরিমাণ অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে।
টাকা গণনায় পাঁচ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী
টাকা গণনার কাজে আল-জামিয়াতুল ইমদাদিয়া ও পাগলা মসজিদের এতিমখানাসহ দুটি মাদ্রাসার প্রায় সাড়ে তিন শ শিক্ষার্থী, রূপালী ব্যাংকের ১৩০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং মসজিদ কমিটি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সেনাবাহিনীর সদস্যসহ পাঁচ শতাধিক ব্যক্তি অংশ নিচ্ছেন।
পূর্ববর্তী রেকর্ড ও তহবিল
এর আগে গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর ৩ মাস ২৭ দিন পর দানসিন্দুক খুলে সর্বোচ্চ ৩৫ বস্তা থেকে ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। সেই সঙ্গে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালংকার ও হীরাও মিলেছিল। জেলা প্রশাসক ও মসজিদ কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন বলেন, পাগলা মসজিদ ও ইসলামিক কমপ্লেক্সের ব্যয় নির্বাহের পর অবশিষ্ট অর্থ ব্যাংকে জমা রাখা হয়। বর্তমানে ব্যাংকে প্রায় ১১৪ কোটি ১৩ লাখ টাকা এবং অনলাইনে পাওয়া দানের আরও প্রায় ২৫ লাখ টাকা জমা আছে। এবার গণনা শেষে পাওয়া অর্থও ব্যাংকে জমা করা হবে।
নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খান বলেন, দানসিন্দুক খোলা থেকে শুরু করে টাকা গণনা এবং ব্যাংকে জমা দেওয়া পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া সারা বছরই দানসিন্দুকের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিয়োজিত থাকেন।
মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রস্তাবিত ১০তলা ভবনে একসঙ্গে ৪০ থেকে ৫০ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। নারীদের জন্য পৃথকভাবে পাঁচ হাজার মুসল্লির নামাজের ব্যবস্থা থাকবে। এ ছাড়া অনাথ শিশুদের শিক্ষাব্যবস্থা, ধর্মীয় ও মাদ্রাসা শিক্ষা, সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, ক্যাফেটেরিয়া এবং আইটি সেকশনও থাকবে। জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এরই মধ্যে রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিশেষজ্ঞ দল কারিগরি মূল্যায়ন সম্পন্ন করেছে এবং দ্রুতই প্রকল্পের কার্যাদেশ দিয়ে নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।
দানবাক্সের ঐতিহ্য
কিশোরগঞ্জ শহরের পশ্চিমে নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত পাগলা মসজিদ জেলার অন্যতম ঐতিহাসিক ও জনপ্রিয় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এ মসজিদে দান করলে মানুষের মনের আশা পূরণ হয়। এ কারণে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ এখানে নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগিসহ বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী দান করে থাকেন।



