জাতীয় সংসদে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি টেলিটকসহ দেশের চার মোবাইল অপারেটরের কাছে সরকারের ১৩ হাজার ১৪৪ কোটি টাকার রাজস্ব বকেয়া রয়েছে। তিনি জানান, এর মধ্যে গ্রামীণফোনের কাছে ৬ হাজার ১০২ কোটি, টেলিটকের কাছে ৫ হাজার ৯৫৪ কোটি, রবির কাছে ৬১৫ কোটি এবং বাংলালিংকের কাছে ৪৭৩ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে।
অ্যামটবের বক্তব্য: বকেয়া নয়, বরং বিরোধ
মন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটব এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, আলোচিত অর্থের বড় অংশই সরাসরি বকেয়া নয়; বরং এটি ভ্যাট, রাজস্ব ভাগাভাগি, অডিট (নিরীক্ষা) আপত্তি এবং লাইসেন্স শর্তের ব্যাখ্যাসংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের সঙ্গে সম্পর্কিত।
অ্যামটব বলেছে, অপারেটররা বিটিআরসিকে বিভিন্ন অর্থ পরিশোধ করলেও প্রয়োজনীয় ভ্যাট চালান সংগ্রহে জটিলতার কারণে ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিটের সুবিধা পায়নি। এ ছাড়া রাজস্ব ভাগাভাগির অর্থের ওপর ভ্যাট আরোপের বিষয়টি দ্বৈত করের ঝুঁকি তৈরি করেছে বলে দাবি করেছে তারা।
আইনি বিরোধ ও স্বচ্ছতার আহ্বান
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নিরীক্ষা কার্যক্রমে লাইসেন্সের শর্তের ভিন্ন ব্যাখ্যা থেকেও বিপুল অঙ্কের অর্থের এ বিতর্কিত দাবি তৈরি হয়েছে। এসব বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান। তাই সেগুলোকে চূড়ান্ত বকেয়া হিসেবে উপস্থাপন করাটা বাস্তব চিত্রের প্রতিফলন নয়।
মুঠোফোন অপারেটরদের সংগঠনটি বলছে, আদালতের শরণাপন্ন হওয়া মানে দায়িত্ব এড়ানোর কোনো প্রচেষ্টা নয়; বরং এটি আইনগত বিরোধ নিষ্পত্তির একটি স্বীকৃত প্রক্রিয়া। নিয়ন্ত্রক ও করসংক্রান্ত বিষয়গুলোতে স্বচ্ছতা এবং আইনি নিশ্চয়তা নিশ্চিত করতে সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও অপারেটরদের মধ্যে গঠনমূলক সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে অ্যামটব।



