দেশের বাজারে একদিনের ব্যবধানে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ (পিওর গোল্ড) ও রৌপ্যের দাম বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে নতুন এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন দাম কার্যকর
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে সারা দেশে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।
নতুন মূল্য অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের হলমার্ক করা স্বর্ণালংকারের প্রতি গ্রাম বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯ হাজার ২২০ টাকা; যা আগের দিনের দামের তুলনায় ১৯০ টাকা বেশি। সে হিসাবে প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৬৬ টাকা; যা আগের দিনের তুলনায় ২ হাজার ২১৫ টাকা বেশি।
এছাড়া ২১ ক্যারেটের হলমার্ক করা স্বর্ণের প্রতি গ্রাম বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ হাজার ৩৫৫ টাকা; যা আগের তুলনায় ১৮০ টাকা বেশি। ১৮ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম স্বর্ণের দাম বেড়ে হয়েছে ১৫ হাজার ৭৬৫ টাকা, অর্থাৎ ১৫৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি গ্রাম বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ হাজার ৮৮০ টাকা; যা আগের তুলনায় ১২৫ টাকা বেশি।
রৌপ্যের দামও বাড়ল
স্বর্ণের পাশাপাশি রৌপ্যালংকারের দামও বাড়ানো হয়েছে। নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম রৌপ্যালংকারের দাম ৪০৫ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৩৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৩৩৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রৌপ্যালংকারের প্রতি গ্রাম ২৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজুস জানিয়েছে, অলংকারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। তবে বিক্রয়মূল্যের মধ্যেই ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। এছাড়া স্বর্ণ ও রৌপ্যালংকার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে সংগঠনটির বিদ্যমান নীতিমালা বহাল থাকবে।
আগের দিন কমেছিল দাম
এর মাত্র একদিন আগে, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই), বাজুস স্বর্ণের দাম কমিয়েছিল। তখন ২২ ক্যারেটের হলমার্ক করা স্বর্ণের প্রতি গ্রাম বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৯ হাজার ৩০ টাকা; যা আগের দামের তুলনায় ২৮৫ টাকা কম ছিল। সে সময় প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নেমে এসেছিল ২ লাখ ২১ হাজার ৯৫১ টাকায়।
এর আগে ৬ জুলাইও স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছিল। তখন ২২ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয় ১৯ হাজার ৩১৫ টাকা এবং প্রতি ভরি ছিল ২ লাখ ২৫ হাজার ২৭৫ টাকা।
চলতি বছরে ৮৮ বার দাম সমন্বয়
বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে দেশের বাজারে এখন পর্যন্ত ৮৮ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছে, ৪৩ বার কমানো হয়েছে এবং একবার ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের মূল্য, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ ও রৌপ্যের দাম এবং সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিয়মিতভাবে এ মূল্য সমন্বয় করা হয় বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।



