ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসি) এবং বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআরইএ) যৌথভাবে শনিবার রাজধানীতে ‘বাংলাদেশে বৈদ্যুতিক গাড়ির (ইভি) ব্যবহার: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক একটি সেমিনারের আয়োজন করে। সেখানে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে ইভি ব্যবহারের বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, চার্জিং স্টেশনের অপ্রতুলতা, দুর্বল ব্যাটারি ব্যবস্থাপনা এবং সমন্বিত নীতিমালার অভাব এই খাতের উন্নয়নের প্রধান বাধা।
পিপিপি ও দীর্ঘমেয়াদী নীতির গুরুত্ব
অংশীদাররা মনে করেন, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) মাধ্যমে চার্জিং অবকাঠামো নির্মাণ এবং দীর্ঘমেয়াদী নীতি কাঠামো প্রণয়ন ছাড়া এই শিল্পের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। ডিসিসি সভাপতি তাসকিন আহমেদ তাঁর মূল বক্তব্যে বলেন, বিশ্বব্যাপী কার্বন নিঃসরণ কমাতে এবং টেকসই উন্নয়ন অর্জনে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। বাংলাদেশে সরকার কর ও শুল্ক সুবিধাসহ বিভিন্ন নীতি সহায়তা দিলেও চার্জিং অবকাঠামো, নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ, প্রযুক্তিগত মান এবং বেসরকারি বিনিয়োগে আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
ইভি নিবন্ধনের অবস্থা
তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ৬০ লাখ তিনচাকার যানবাহন থাকলেও বিআরটিএতে নিবন্ধিত ইভি গাড়ির সংখ্যা মাত্র ৬৬৯টি। তিনি এই সম্ভাবনাময় খাতের উন্নয়নে দ্রুত একটি ব্যাপক নীতি প্রণয়নের আহ্বান জানান। বাংলাদেশ এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার রিসার্চ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওয়াহিদ হোসেন বলেন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত না করা গেলে ইভি খাতে প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন সম্ভব নয়। একইসঙ্গে তিনি বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সমন্বয়ে একটি কেন্দ্রীয় সেল গঠন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দেন।
খসড়া নীতি প্রস্তুত
শিল্প সচিব আবদুন নাসের খান জানান, ইভি খাতের জন্য একটি খসড়া নীতি প্রস্তুত করা হয়েছে। আন্তঃমন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের মতামত নিয়ে শিগগিরই একটি বাস্তবসম্মত ও আপডেটেড নীতি চূড়ান্ত করা হবে। এর মূল লক্ষ্য হবে আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং দেশের জ্বালানি সক্ষমতা বাড়ানো। রানার অটোমোবাইলস পিএলসির চেয়ারম্যান ও বামা সভাপতি হাফিজুর রহমান খান বলেন, ইভি শিল্প উপাদান উৎপাদন ও রপ্তানির মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের রপ্তানি বহুগুণ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করেছে।
ব্যাটারি ও রেজিস্ট্রেশন সমস্যা
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, রেজিস্ট্রেশনের অভাবে সরকারের কাছে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের প্রকৃত সংখ্যা এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারের তথ্য নেই। নিম্নমানের ব্যাটারির কারণেও বিদ্যুৎ অপচয় হচ্ছে। বিএসআরইএ সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ বলেন, পরিবহন খাতে বছরে প্রায় ৬৫ হাজার কোটি টাকার জ্বালানি প্রয়োজন, যার একটি বড় অংশ আমদানিনির্ভর। ইভির ব্যবহার বাড়ালে শুধু বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে না, জ্বালানি নিরাপত্তাও শক্তিশালী হবে।
চার্জিং স্টেশন ও ঋণ সুবিধা
আইডকলের ভাইস প্রেসিডেন্ট তানভির ইবনে বাশার দ্রুত চার্জিং স্টেশন স্থাপন, আমদানি প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং দীর্ঘমেয়াদী ঋণ সুবিধা প্রদানের আহ্বান জানান। আকিজ মোটরসের সিইও শেখ আমিন উদ্দিন বলেন, ইভির জ্বালানি খরচ প্রায় ৩০% কম হওয়ায় এই প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়ানো প্রয়োজন।



