বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাত তার প্রধান রপ্তানি গন্তব্য ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) কঠিন প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হয়েছে। সাম্প্রতিক বাণিজ্য তথ্য ইঙ্গিত দেয় যে, দেশটি ইইউ বাজারে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাজার অংশ হারিয়েছে।
বাজার অংশ হ্রাস ও প্রতিযোগীদের অগ্রগতি
ইউরোস্ট্যাটের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি-এপ্রিল সময়ে ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় তীব্রভাবে কমেছে। এর ফলে ইইউতে বাংলাদেশের বাজার অংশ ২৪.৪% থেকে কমে ২১.৯% এ দাঁড়িয়েছে। শিল্প বিশ্লেষকরা বলছেন, ইইউ অঞ্চলে সকল প্রধান পোশাক রপ্তানিকারক দেশের মধ্যে বাংলাদেশের বাজার অংশের এই পতন সবচেয়ে তীব্র।
বৈশ্বিক চাহিদা সংকোচনের সময়েও ভারত, চীন ও ভিয়েতনাম তাদের বাজার অংশ ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। ভারত তার রপ্তানি হ্রাস মাত্র ১২.১% এ সীমাবদ্ধ রেখেছে এবং বাজার অংশ স্থিতিশীল রেখেছে। ভারতীয় রপ্তানিকারকরা দেশীয় কাঁচামালের ভিত্তি, কৃত্রিম তন্তু (এমএমএফ) উৎপাদনে দক্ষতা এবং ইইউ-ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) অগ্রগতির সুবিধা পাচ্ছে।
চীন ও ভিয়েতনামের কৌশল
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ শুল্কের মুখে চীনা রপ্তানিকারকরা ইউরোপে অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক মূল্য নির্ধারণ করেছে। রাষ্ট্রীয় ভর্তুকি ও স্বয়ংক্রিয় লজিস্টিকসের মাধ্যমে চীন ইইউতে নিজেদের বাজার অংশ ২৮.৬% এ উন্নীত করেছে। অন্যদিকে, ইইউ-ভিয়েতনাম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (ইভিএফটিএ) সুবিধা নিয়ে ভিয়েতনাম তাদের রপ্তানি হ্রাস মাত্র ০.৭% এ রাখতে পেরেছে এবং উচ্চমূল্যের নিটওয়্যার রপ্তানি ২.৩% বাড়িয়েছে।
ইউনিট মূল্যের পতন
অর্ডারের পরিমাণ হ্রাসের পাশাপাশি বাংলাদেশি নির্মাতারা মুনাফার মার্জিনেও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে। গড় ইউনিট মূল্য আগের বছরের তুলনায় কমেছে। ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি-এপ্রিলে পোশাকের গড় ইউনিট মূল্য ছিল ১৫.৫৯ ইউরো প্রতি কেজি, যা ২০২৬ সালের একই সময়ে কমে দাঁড়িয়েছে ১৩.৯৬ ইউরো প্রতি কেজি। অন্যদিকে, ভিয়েতনাম তাদের গড় ইউনিট মূল্য বাড়াতে সক্ষম হয়েছে, যা উচ্চমূল্যের প্রযুক্তিগত পোশাকে তাদের দক্ষতা প্রতিফলিত করে।
প্রভাব ও ভবিষ্যৎ
বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য এটি একটি সংকটময় সময়। ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ পরিচালন ব্যয় ও লজিস্টিকস জটিলতার কারণে প্রতিযোগী দেশগুলোর আক্রমণাত্মক মূল্য কৌশল ও স্বল্প লিড টাইমের সঙ্গে তাল মেলানো কঠিন হয়ে পড়ছে। শিল্প বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশকে উৎপাদন খরচ কমাতে, পণ্যের মান বাড়াতে এবং নতুন বাজার খুঁজতে হবে।



