বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট ও জ্বালানি অনিশ্চয়তা, দেশের তৈরি পোশাক খাতকে চরম চাপে ফেলেছে। এমন প্রেক্ষাপটে রফতানির ভবিষ্যৎ, শিল্পের চ্যালেঞ্জ ও করণীয় নিয়ে বিডি গেজেটের সাথে কথা বলেছেন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “বর্তমান সংকট সাময়িক হলেও প্রস্তুতি না থাকলে ক্ষতি বড় হতে পারে। তাই জ্বালানি নিরাপত্তা, কম সুদে অর্থায়ন এবং শক্তিশালী সাপ্লাই চেইন নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।”
মধ্যপ্রাচ্য-সংকট ও জ্বালানি সমস্যায় পোশাক খাত কতটা চাপে?
মাহমুদ হাসান খান: সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো জ্বালানি। আগে সহজে ডিজেল পাওয়া গেলেও এখন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। লোডশেডিং হলে জেনারেটর চালাতে পারছি না, ফলে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে সময়মতো শিপমেন্ট ঝুঁকিতে পড়ছে, অর্ডার বাতিল বা এয়ার ফ্রেটের মতো ব্যয় বাড়ছে।
এই সংকটের প্রভাব প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় কেমন?
মাহমুদ হাসান খান: দাম বাড়ার ক্ষেত্রে সবাই একই অবস্থায়। তবে সাপ্লাই চেইন ও জ্বালানি প্রাপ্যতায় বাংলাদেশ পিছিয়ে। ভারত, চীন বা ভিয়েতনামে সরবরাহে এতটা বিঘ্ন ঘটেনি।
রফতানি ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা কতটা?
মাহমুদ হাসান খান: মধ্যপ্রাচ্য-সংকট দ্রুত সমাধান না হলে বলা কঠিন রফতানি কবে বাউন্স ব্যাক করবে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মার্কিন শুল্ক ও বৈশ্বিক চাহিদা কমে যাওয়া। তবে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে আবার প্রবৃদ্ধির সুযোগ আছে।
উদ্যোক্তাদের জন্য বড় ঝুঁকি কোথায়?
মাহমুদ হাসান খান: যার আর্থিক সক্ষমতা কম এবং কন্টিনজেন্সি পরিকল্পনা নেই, সে বেশি ঝুঁকিতে। ছোট-বড় নয়, প্রস্তুতির বিষয়টাই গুরুত্বপূর্ণ। অন্তত ১-২ মাস সংকট সামাল দেওয়ার সক্ষমতা থাকতে হবে।
ব্যাংকিং খাত ও সুদের হার কতটা চাপ তৈরি করছে?
মাহমুদ হাসান খান: কস্ট অব ফান্ড অনেক বেশি। ১২-১৪ শতাংশ সুদে শিল্প পরিচালনা কঠিন। উচ্চ খেলাপি ঋণের কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কম সুদের তহবিল ও রিফাইন্যান্সিং সুবিধা বাড়ানো জরুরি।
সরকারের কাছে প্রধান প্রত্যাশা কী?
মাহমুদ হাসান খান: ব্যাংকিং খাতে কঠোর নজরদারি দরকার, যাতে আর লুটপাট না হয়। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি দ্রুত অবকাঠামো উন্নয়ন, বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে বাস্তবায়ন জরুরি।
শ্রমিকদের মজুরি ও অসন্তোষ প্রসঙ্গে আপনার মত কী?
মাহমুদ হাসান খান: আইন অনুযায়ী প্রতি বছর ন্যূনতম ৯ শতাংশ মজুরি বাড়ে। সমস্যা হয় যখন কোনও কারখানায় ব্যবসা কমে যায় বা শ্রমিকদের প্রাপ্য পরিশোধে বিলম্ব হয়। সবাইকে আইন মেনে চলতে হবে।
রানা প্লাজার পর শিল্পে কতটা পরিবর্তন এসেছে?
মাহমুদ হাসান খান: বড় ধরনের দুর্ঘটনা আর ঘটেনি। সেফটি, কমপ্লায়েন্স ও অবকাঠামোতে বড় উন্নতি হয়েছে। এখন লক্ষ্য হচ্ছে এই মান ধরে রাখা এবং অন্যান্য খাতেও তা বিস্তৃত করা।
গ্রিন ফ্যাক্টরি ও টেকসই উৎপাদনে অগ্রগতি কেমন?
মাহমুদ হাসান খান: বাংলাদেশ এখন বিশ্বে শীর্ষ গ্রিন ফ্যাক্টরির অন্যতম কেন্দ্র। এটি প্রতিযোগিতায় সুবিধা দিচ্ছে এবং ভবিষ্যতে ইউরোপীয় বাজারে টিকে থাকতে সহায়ক হবে।



