বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে শিল্প খাতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার ব্যবহার বেড়েছে, তবে ব্যাটারি আমদানিতে বিধিনিষেধ ও শুল্ক জটিলতার কারণে উদ্যোক্তারা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)।
বাজেটপূর্ব আলোচনায় দাবি
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবনে রোববার (২৬ এপ্রিল) এক বাজেটপূর্ব আলোচনায় সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এই সমস্যার সমাধান দাবি করেন।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এখন শিল্পে সৌরবিদ্যুৎ অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।
এর আগে নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত করে মাস শেষে বিল সমন্বয়ের সুযোগ ছিল। তবে বর্তমানে লোডশেডিংয়ের সময় উৎপাদন চালু রাখতে ব্যাকআপ হিসেবে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করা প্রয়োজন, যার জন্য ব্যাটারি স্টোরেজ অপরিহার্য।
“দুই থেকে তিন ঘণ্টার লোডশেডিং মোকাবিলায় সোলার জেনারেটর মোডে স্যুইচ করার জন্য ব্যাটারি প্রয়োজন। কিন্তু আমদানিতে বিভিন্ন বিধিনিষেধের কারণে উদ্যোক্তারা সমস্যায় পড়ছেন। এ বিষয়ে নীতি সহজীকরণ প্রয়োজন।”
চট্টগ্রাম বন্দরে জটিলতা
বিকেএমইএ সভাপতি আরও অভিযোগ করেন, চট্টগ্রাম বন্দরে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের যন্ত্রাংশ আটকে রাখার ঘটনাও রয়েছে। একটি চার মেগাওয়াট প্রকল্পের মাউন্টিং স্ট্রাকচার অব্যাহতি না পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ দিতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, এই অভিযোগগুলো গুরুত্ব সহকারে পর্যালোচনা করা হবে। তিনি মন্তব্য করেন, কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তা বাস্তবায়িত না হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। অপব্যবহার রোধে সতর্ক থাকারও নির্দেশ দেন তিনি।
উপকরণ শিল্পে জটিলতা
আলোচনায় বিকেএমইএ পোশাক খাতের উপকরণ ব্যবস্থার জটিলতা, ভ্যাট কর্মকর্তাদের হয়রানি ও পণ্য পরিবহনে প্রশাসনিক বাধার কথাও তুলে ধরে।
জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, জাতীয় অর্থনীতিতে প্রকৃত মূল্য সংযোজন করে না এমন কার্যক্রমে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা তৈরি হবে না। তবে সুবিধা পেতে হলে দেশের অর্থনীতিতে অবদান প্রমাণ করতে হবে।
বাজেট প্রস্তাব
সংগঠনটি তাদের বাজেট প্রস্তাবে আগামী পাঁচ বছরের জন্য উৎসে কর ০.৫ শতাংশ রাখা, রপ্তানির বিপরীতে নগদ সহায়তার ওপর ১০ শতাংশ কর প্রত্যাহার এবং উপকরণ আয়ের ওপর ১২ শতাংশ ফ্ল্যাট কর নির্ধারণের প্রস্তাব করে।
এছাড়া ছোট ও মাঝারি শিল্প টিকিয়ে রাখতে উপকরণের উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করার দাবি জানায়।
একই সময়ে বিকেএমইএ কৃত্রিম ফাইবার আমদানিতে ভ্যাট অব্যাহতি বজায় রাখা এবং পুনর্ব্যবহৃত ফাইবার উৎপাদনে ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেয়।



