জাতীয় চিড়িয়াখানায় বড়শি দিয়ে মাছ ধরার সুযোগ, প্রতি মাসের প্রথম শুক্রবার
জাতীয় চিড়িয়াখানায় বড়শি দিয়ে মাছ ধরার সুযোগ

রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত জাতীয় চিড়িয়াখানা শুধু বাঘ, হাতি, ময়ূরসহ নানা প্রজাতির পশুপাখির জন্যই পরিচিত নয়, বরং এখানে রয়েছে বড়শি দিয়ে মাছ ধরার বিশেষ সুযোগ। চিড়িয়াখানার দুটি বড় লেক—দক্ষিণ লেক (৩২ একর) ও উত্তর লেক (২৪ একর)—এ প্রতি মাসের প্রথম শুক্রবার মৎস্যপ্রেমীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে।

মাছ ধরার নিয়মকানুন

প্রতি মাসের প্রথম শুক্রবার সকাল সাতটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত দর্শনার্থীরা বড়শি দিয়ে মাছ ধরতে পারেন। এ জন্য দুই হাজার টাকার একটি টিকিট কাটতে হয়, যা দিয়ে দুটি বড়শি ব্যবহার করা যায়। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, যাঁরা মাছ ধরতে আসেন, তাঁরা সাধারণত সকাল সাত থেকে আটটার মধ্যে চলে আসেন। ফটকে উপস্থিত কর্মীরা সকাল আটটা পর্যন্ত টিকিট প্রদান করেন। পরে আসলেও ফটকে যোগাযোগ করে টিকিট নেওয়া সম্ভব।

লেকের মাছের বৈচিত্র্য

মৎস্য অধিদপ্তর প্রতিবছর এই দুই লেকে পোনা অবমুক্ত করে, যা প্রাকৃতিক খাবার খেয়ে বড় হয়। এখানে রুই, কাতলা, মৃগেল, চিতল, পাঙাশ, গজার, তেলাপিয়াসহ নানা জাতের মাছ পাওয়া যায়। কখনো কখনো ২৫ থেকে ৩০ কেজি ওজনের মাছও ধরা পড়ে। সাধারণত জাল দিয়ে মাছ ধরা হয় না, তবে ২০২২ সালে সর্বশেষ জাল দিয়ে মাছ ধরা হয়েছিল।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আয়ের উৎস ও ইতিহাস

জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক মোহাম্মাদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, প্রতি মাসে গড়ে ৪৫ থেকে ৫০ জন মাছশিকারি আসেন, কোনো কোনো মাসে ৭০-৭৫ জনও আসেন। এটি চিড়িয়াখানার আয়ের একটি উৎস। কিউরেটর মো. আতিকুর রহমান জানান, ১৯৭৮ সালে লেক খনন শুরু হয় এবং ১৯৮০ সালে শেষ হয়। ১৯৯০ সালে প্রথম বড়শি দিয়ে মাছ ধরার সুযোগ দেওয়া হয়, যা আগে মাসে চারবার ছিল, পরে প্রাণীদের কথা বিবেচনায় মাসে একবার করা হয়।

জাতীয় চিড়িয়াখানা ১৮৬.৬৩ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত। ১৯৫০ সালে ঢাকা হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে সীমিত পরিসরে যাত্রা শুরু করে, পরে ১৯৬০ সালে মিরপুরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা অনুমোদিত হয় এবং ১৯৭৪ সালের ২৩ জুন জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ