টাঙ্গাইলের মধুপুরে বিয়ের সাত মাস পর সিঙ্গাপুর প্রবাসী এক যুবক হেলিকপ্টারে চড়ে স্ত্রীকে নিতে শ্বশুরবাড়ি আসায় এলাকাজুড়ে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার দুপুরে মধুপুর উপজেলার আউশনারা ইউনিয়নের মোটের বাজার এলাকার লাইনপাড়ায় এই ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটে।
হেলিকপ্টার দেখতে মানুষের ঢল
সিঙ্গাপুর প্রবাসী মুরাদ হোসেন আকাশ (২৫) হেলিকপ্টার নিয়ে শ্বশুরবাড়ি আসার খবর মুহূর্তেই চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। শিশু, কিশোর, তরুণ ও বয়স্ক মানুষসহ শত শত মানুষ বিরল এই দৃশ্য দেখতে ছুটে আসেন। হেলিকপ্টারটি অবতরণ করলে উৎসুক জনতা তা ঘিরে ধরে।
প্রবাসী যুবকের পরিচয়
মুরাদ হোসেন আকাশের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া উপজেলার কেশরগঞ্জ গ্রামে। তার বাবা আজহার আলী ওমান প্রবাসী। অন্যদিকে, তার স্ত্রী শশী আক্তার মধুপুরের আউশনারা ইউনিয়নের মোটের বাজার এলাকার লাইনপাড়ার বাসিন্দা। তিনি সাবেক ইউপি সদস্য শাহজাদার মেয়ে এবং ২০২৫ সালে এসএসসি পাস করেছেন।
বিয়ের সাত মাস পর ব্যতিক্রমী আগমন
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৭ নভেম্বর শশী আক্তারের সঙ্গে মুরাদ হোসেন আকাশের বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পরই তিনি কর্মস্থল সিঙ্গাপুরে ফিরে যান। দীর্ঘ সাত মাস পর দেশে ফিরে এবার তিনি স্ত্রীকে নিজ বাড়িতে নিতে বেছে নেন এক ব্যতিক্রমী উপায়—হেলিকপ্টার।
শ্বশুরের প্রতিক্রিয়া
শশী আক্তারের বাবা শাহজাদা জানান, জামাই হেলিকপ্টারে করে মেয়েকে নিতে আসবেন, এমনটা কখনো কল্পনাও করিনি। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়। আমরা এলাকাবাসীকে দাওয়াত দিয়েছিলাম, কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে পাঁচশ মানুষকে মেজবানি খাওয়াতে হয়েছে।
উৎসুক মানুষের আনন্দ
তিনি আরও জানান, হেলিকপ্টার দেখতে আসা উৎসুক মানুষের আনন্দ বাড়াতে মুরাদ প্রায় ১০ থেকে ১৫ জনকে হেলিকপ্টারে উঠে বসার সুযোগ করে দেন। এতে উপস্থিতদের মধ্যে বাড়তি উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
গ্রামবাসীর ভাষ্য
স্থানীয়দের ভাষ্য, গ্রামাঞ্চলে এমন দৃশ্য সচরাচর দেখা যায় না। হেলিকপ্টারের শব্দ শোনার সঙ্গে সঙ্গেই আশপাশের এলাকা থেকে মানুষ ছুটে আসে। অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। কেউ কেউ এটিকে জীবনের স্মরণীয় একটি ঘটনা বলেও উল্লেখ করেন।
ব্যতিক্রমী এই আয়োজন ঘিরে পুরো এলাকায় যেন উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। নবদম্পতির নতুন জীবনের যাত্রা শুরু হলো আকাশপথে, আর সেই দৃশ্য দীর্ঘদিন মনে রাখবেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।



