সিলেট নগরের বারুতখানা এলাকায় একটি অস্থায়ী ডাস্টবিনের পাশে পড়ে আছে কোরবানির বর্জ্য। শুক্রবার বেলা ২টা ৪৫ মিনিটে দেখা যায়, বারুতখানা-লালবাজার সড়কের কয়েক শ গজ দূরে পৃথক ৪টি স্থানে একটি স্থায়ী ভাগাড় ও তিনটি অস্থায়ী ডাস্টবিনে পশুর লেজ, মাথা, ক্ষুর, আংশিক চামড়া, ভুঁড়ির বর্জ্য ও খুলি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। কোথাও পশুর রক্ত জমে আছে। একটি ডাস্টবিনের পাশে বসে এক নারী পরিত্যক্ত পশুর মাথার মাংস দা দিয়ে কেটে পাত্রে জমা করছেন।
বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম
গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু করে সিলেট সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। প্রথম ৮ ঘণ্টায় ৮০০ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে, যা মোট বর্জ্যের ৯৮ শতাংশ বলে সিটি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে। আজ শুক্রবারও বর্জ্য অপসারণের কাজ চলছে। সরকারি ঘোষণা ছিল যে পবিত্র ঈদুল আজহার কোরবানির বর্জ্য ১২ ঘণ্টার মধ্যেই সরানো হবে। তবে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী ৮ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য সরানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন পরিচ্ছন্নতা বিভাগকে।
যোগাযোগ করলে আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “৮ ঘণ্টায় অন্তত ৯৮ ভাগ বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। ঈদের পরদিন আজও নগরের কিছু এলাকায় কোরবানি দেওয়া হয়। অনেকে আবার কসাইয়ের অভাবে কোরবানির দিন মাংস কাটা শেষ করতে পারেননি। ফলে দ্বিতীয় দিনেও কোথাও কোথাও মাংস কাটার কাজ চলছে। এতে আজও বর্জ্য জমেছে। তবে সন্ধ্যার আগেই শতভাগ বর্জ্য অপসারণ করা হবে।”
পরিদর্শন ও তদারকি
আজ ও গতকাল বিকেলে নগরের বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, বেশির ভাগ এলাকা থেকেই কোরবানির বর্জ্য সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা অপসারণ করছেন। তবে নগরের বারুতখানা এলাকায় চারটি ভাগাড়ে কোরবানির বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শাখা সূত্রে জানা গেছে, নগরে চলতি বছর প্রায় ২৪ হাজার পশু কোরবানি দেওয়া হয়। কোরবানি শেষে বর্জ্য রাখার জন্য গতকাল সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ৩০ হাজার বায়োডিগ্রেডেবল (পরিবেশবান্ধব পচনশীল) ব্যাগ, ৫ হাজার কেজি ব্লিচিং পাউডার বিনা মূল্যে বিতরণ করা হয়। কোরবানি শেষে ১ হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মী একযোগে নগরের ৪২টি ওয়ার্ডে কোরবানির বর্জ্য অপসারণের কাজ শুরু করেন। সিটি করপোরেশনের নিজস্ব ৬০টি ট্রাকের পাশাপাশি ভাড়ায় আরও ৫৫টি ট্রাক ব্যবহার করা হয়। গতকাল বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রায় ৮০০ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়।
নাগরিকদের প্রতিক্রিয়া
নগরের একাধিক বাসিন্দা জানিয়েছেন, অন্যান্য বছর বর্জ্য অপসারণে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ তৎপর থাকত। এরপরও অনেক এলাকায় দীর্ঘ সময় বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখা যেত। এবার এর অনেকটাই ব্যতিক্রম ছিল। কোরবানির পরপরই নগরের প্রতিটি ওয়ার্ডে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা বর্জ্য অপসারণে একযোগে কাজ শুরু করেন। এতে বেশির ভাগ এলাকা থেকেই দ্রুততম সময়ে বর্জ্য অপসারিত হয়।
নগরের পাঠানটুলা এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসাইন বলেন, “কোরবানির পর বিকেলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বেরিয়েছিলাম। দেখলাম, প্রায় এলাকাতেই কোরবানির বর্জ্য নেই। কোথাও কোথাও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের বর্জ্য অপসারণ করে পানি ছিটিয়ে ব্লিচিং পাউডার ছিটাতে দেখলাম। বিষয়টি ভালো লেগেছে। তবে যেসব এলাকায় এখনো বর্জ্য পড়ে আছে, সেসবও অপসারিত হোক।”
উচ্চ পর্যায়ের তদারকি
সিটি করপোরেশনের একটি সূত্র জানিয়েছে, বর্জ্য অপসারণের বিষয়টি গতকাল দিনভর বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে তদারক করেছেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার ও প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ একলিম আবদীন। এ সময় তাঁরা পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের যেকোনো মূল্যে দ্রুততার সঙ্গে বর্জ্য অপসারণের নির্দেশনা দেন।



