মাগুরায় প্রায় ১৯ লাখ টাকা মূল্যের ভোজ্যতেলভর্তি ট্রাক ছিনতাই ও চালককে হত্যার ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে; সেই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে লুট হওয়া ৪৫ দশমিক ৫ ব্যারেল তেল, ৭টি খালি ব্যারেল এবং তেল বিক্রির ৩ লাখ ৭ হাজার ৭০০ টাকা।
গতকাল সোমবার দুপুরে মাগুরা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন। তিনি বলেন, এটি একটি সুসংগঠিত অপরাধী চক্রের কাজ। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ জানায়, ১৬ মে মাগুরার শালিখা উপজেলার আড়পাড়া বাজারের মেসার্স মহামায়া ট্রেডার্সের মালিক গোপাল সাহা ঢাকার এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১৯ লাখ টাকা মূল্যের ৬০ ব্যারেল ভোজ্যতেল কেনেন। ১৮ মে রাত ১০টার দিকে চালক আবদুর রহমান নারায়ণগঞ্জের সাইলো ঘাট থেকে তেলবোঝাই ট্রাক নিয়ে মাগুরার উদ্দেশে রওনা হন। তবে ট্রাকটি আর গন্তব্যে পৌঁছায়নি। চালকের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
মরদেহ উদ্ধার
নিখোঁজের দুই দিন পর ২০ মে বিকেলে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার খেদপাড়া এলাকায় রাস্তার পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় ট্রাকটি পাওয়া যায়। ট্রাকের ভেতর থেকে দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয় লোকজন পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ট্রাকের ভেতর থেকে চালক আবদুর রহমানের গলিত মরদেহ উদ্ধার করে। তিনি যশোরের কোতোয়ালি থানার রাজারহাট গ্রামের বাসিন্দা।
গ্রেপ্তার ও উদ্ধার
আজাদ হোসেনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চোরাই তেল কেনার অভিযোগে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা হলেন বিকাশ সাহা (৩০), মো. আবদুর কুদ্দুস (৫০) ও হারুন অর রশীদ (৪৮)। পুলিশ জানায়, ফরিদপুরের কামারখালী এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তেলভর্তি ট্রাকটি পার হওয়ার সময় চালক আবদুর রহমান গাড়িতে ছিলেন না। অন্য একজন ট্রাকটি চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। পুলিশের ধারণা, ঢাকা থেকে মাগুরা রুটের কোনো নির্জন স্থানে চালককে হত্যা করে ট্রাকটির নিয়ন্ত্রণ নেয় অপরাধীরা।
পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন বলেন, ‘এটি একটি সংঘবদ্ধ ও নৃশংস অপরাধ। আমাদের সাইবার ক্রাইম সেল ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্লু-লেস এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে সক্ষম হয়েছে।’



