সাইপ্রাস থেকে ফিরে চা ও দোলনা ব্যবসায় সফল সেলিনা
সাইপ্রাস থেকে ফিরে চা ও দোলনা ব্যবসায় সফল সেলিনা

পরিবারে সচ্ছলতা আনতে সাইপ্রাস গিয়ে টিকতে পারেননি সেলিনা হোসেন। দেশে ফিরে ক্ষুদ্র ব্যবসা করে এখন তিনি আরও ১০ জনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নিজের পুনরুত্থানের গল্প শোনান তিনি।

সেলিনার গল্প

পরিবারের ভাগ্য ফেরাতে স্বামীর সহায়তায় দালালের মাধ্যমে সাইপ্রাস যান টাঙ্গাইলের সেলিনা বেগম। তবে সেখানে টিকতে পারেননি। ফিরে আসেন খালি হাতে। দেশে ফিরে সামাজিকভাবে আরও চাপে পড়ে যান। টাকা ফেরত দিতে চাপ দেন স্বামী। এরপর নামেন ঘুরে ঘুরে চায়ের প্যাকেট বিক্রির ব্যবসায়। এখন চায়ের পাশাপাশি দোলনা তৈরির ব্যবসা করে আরও ১০ জনের কর্মসংস্থান করেছেন তিনি।

নিজের পুনরুত্থানের এমন গল্প নিজেই শোনান সেলিনা হোসেন। তিনি বলেন, নারী হয়ে বিদেশ গেলে খারাপ চোখে দেখে সমাজের মানুষ। ফিরে এলে এটি ১০ গুণ বেড়ে যায়। তাই ফেরার পর এক মাস বাসা থেকে বের হননি। এরপর চায়ের ব্যবসা করে সংসার চালানো শুরু। ব্র্যাকের সহায়তায় একটি স্কুটি কিনেছেন, যা দিয়ে পুরো থানায় চা সরবরাহ করেন। সমাজ ও স্বামী ফেলে দিলেও ব্র্যাক ফেলে দেয়নি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রত্যাশা প্রকল্পের উদ্যোগ

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন বিদেশফেরত সেলিনা হোসেন। ফিরে আসা প্রবাসীদের পুনর্বাসনে কাজ করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্র্যাকের সহায়তায় পরিচালিত প্রত্যাশা প্রকল্প। এ প্রকল্পের পক্ষ থেকে আয়োজিত হয় অনুষ্ঠানটি। ‘ফিরে আসা থেকে পুনরুত্থান: ঘুরে দাঁড়ানো ও পুনরেকত্রীকরণের গল্প’ শিরোনামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ফিরে আসা প্রবাসীদের টিকে থাকার লড়াই ও সফলতা তুলে ধরা হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সোহেল রানার গল্প

ইতালি থেকে ফিরে আসা টাঙ্গাইলের সোহেল রানা বলেন, কৃষিকাজ করে সংসার চলত না। তাই দালালের মাধ্যমে রুমানিয়া যান। ২ বছর খুব ভালো ছিলেন দেশটিতে। চুক্তি শেষ হয়ে গেলে অবৈধ পথে ইতালি যান একাধিকবারের চেষ্টায়। কাজ না পেয়ে অসহায় হয়ে পড়েন। ফিরে আসেন দেশে। চলার মতো অবস্থা ছিল না, হাঁটতেও পারতেন না। প্রত্যাশা প্রকল্পের সহায়তায় একটি মুদিদোকান করে ভালো আছেন এখন।

প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, বিপুল প্রবাসী আয় আসছে, যদিও এর পেছনে অনেক কষ্টের গল্প আছে। সরকারিভাবে প্রবাসীদের যেটুকু সুবিধা দেওয়া হয়, তা দায়সারা। পুনর্বাসনে সাড়ে ১৩ হাজার টাকা খুবই কম। এটি আরও বাড়াতে হবে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে হবে।

নুরুল হক আরও বলেন, মানব পাচার ও অবৈধ অভিবাসন রোধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বর্তমানে তিন হাজারের বেশি রিক্রুটিং এজেন্সি আছে। যাচাই–বাছাই করে এদের গ্রেডিং করা হবে, এতে ৬০০–এর বেশি এজেন্সি হয়তো টিকবে না। যোগ্য এজেন্সিকে উৎসাহিত করা হবে এবং যারা প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। সাগরপথে বিদেশে যাওয়ার এই প্রবণতা বন্ধ করতেই হবে। যারা তরুণদের ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসনে সমুদ্রপথে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নেবে।

ব্র্যাকের চেয়ারপারসনের বক্তব্য

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাকের চেয়ারপারসন হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, নিরাপদ অভিবাসন ও বিদেশফেরতদের কল্যাণে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা সবার একসঙ্গে কাজ করা জরুরি; কারণ সমস্যাগুলো বহুমাত্রিক। সরকার এ ক্ষেত্রে ব্র্যাকের অভিজ্ঞতাগুলো নিতে পারে।

এতে আরও বক্তব্য দেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানসচিব মো. মোখতার আহমেদ, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান নাজনীন কাউসার চৌধুরী, বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেলিগেশনের কাউন্সেলর ইউরাতে স্মালস্কাইটে মেরভিল, অতিরিক্ত সচিব মো. সাইফুল হক চৌধুরী, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক মো. আসাদুজ্জামান। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ব্র্যাকের পরিচালক সাফি রহমান খান। প্রত্যাশা প্রকল্পের কার্যক্রম তুলে ধরেন ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল ইসলাম।