দেশের বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে তাৎক্ষণিকভাবে চিনি রপ্তানি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ভারত সরকার। বুধবার (১৩ মে) বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বৈদেশিক বাণিজ্য মহাপরিচালকের দপ্তর থেকে এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে। খবর এনডিটিভির।
কখন পর্যন্ত কার্যকর হবে এই নিষেধাজ্ঞা?
আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অথবা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কাঁচা, সাদা ও পরিশোধিত- সব ধরনের চিনি রপ্তানি ‘নিষিদ্ধ’ ক্যাটাগরিতে থাকবে। এর আগে চিনি রপ্তানি ‘নিবন্ধিত’ অবস্থায় থাকলেও সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে নীতিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তন এল।
চিনি উৎপাদন ও সরবরাহের চিত্র
ভারতের চিনি ও বায়ো-এনার্জি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে চিনির উৎপাদন আগের প্রাক্কলন ৩২ দশমিক ৪ মিলিয়ন টন থেকে কমিয়ে ৩২ মিলিয়ন টন নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৫-২৬ মৌসুমে ভারতের মোট চিনি সরবরাহ দাঁড়াতে পারে প্রায় ৩২৫ লাখ টনে, যার বিপরীতে অভ্যন্তরীণ চাহিদা প্রায় ২৮০ লাখ টন। ফলে বছর শেষে মজুত দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪৫ লাখ টনে, যা ২০১৬-১৭ সালের পর সর্বনিম্ন স্তর। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের কারণে সারের অভাব এবং এল নিনোর প্রভাবে আগামী মৌসুমে ফলন কম হওয়ার আশঙ্কায় আগাম সতর্কতা হিসেবে সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
নিষেধাজ্ঞায় কিছু ছাড়
রপ্তানি নিষিদ্ধ করা হলেও কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে। যেসব চালানের লোডিং ১৩ মে’র আগে শুরু হয়েছে অথবা শুল্ক কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, সেগুলো বিদেশে পাঠানোর অনুমতি পাবে। এছাড়া অন্যান্য দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের অনুরোধে ভারত সরকার বিশেষ অনুমতি প্রদান করতে পারে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বিদ্যমান শুল্ক-হার কোটার অধীনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চিনি রপ্তানি এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।
আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব
ব্রাজিলের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম চিনি উৎপাদনকারী দেশ ভারত রপ্তানি বন্ধ করার ঘোষণা দেওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। নিউইয়র্কে অপরিশোধিত চিনির দাম ২ শতাংশ এবং লন্ডনে সাদা চিনির দাম প্রায় ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলো, যারা মূলত ভারতীয় চিনির ওপর নির্ভরশীল, তারা সরবরাহের সংকটে পড়তে পারে বলে ধারণা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। অন্যদিকে, আকস্মিক এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারতের স্থানীয় চিনি কল মালিক ও ব্যবসায়ীরাও বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।



