সাবেক সেলসম্যানের ৯৪ কোটি টাকার স্বর্ণ আত্মসাৎ, গ্রেফতার
সাবেক সেলসম্যানের ৯৪ কোটি টাকার স্বর্ণ আত্মসাৎ

রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সের একটি স্বর্ণালঙ্কারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবস্থাপকের সহায়তায় বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ আত্মসাৎ করেছে ওই প্রতিষ্ঠানটির সাবেক এক সেলসম্যান। আত্মসাৎকৃত স্বর্ণ বিক্রির টাকা দিয়ে নিজেও জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের মালিক হয়েছে সে। পাশাপাশি কিনেছে ফ্ল্যাট-গাড়ি এবং করেছে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগও।

মঙ্গলবার (১২ মে) বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সের সামনে থেকে কৃষ্ণ বসাক ওরফে স্বপন বসাক (৪৭) নামে ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে বিস্মিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মুহিতুল আলম জানান, অলঙ্কার নিকেতন নামে বসুন্ধরা সিটির একটি জুয়েলারি দোকানে এ ঘটনা ঘটেছে। দোকানের মালিকের বিশ্বস্ত ছিলেন ব্যবস্থাপক আল আমিন ও কৃষ্ণ বসাক।

আল আমিন এতটাই বিশ্বস্ত ছিল যে, নিজের দুই ছেলেকেও দায়িত্ব না দিয়ে তাকে দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়েছিলেন অলঙ্কার নিকেতনের মালিক। কিন্তু সেই বিশ্বাস ভঙ্গ করে সেলসম্যান কৃষ্ণ বসাকের সঙ্গে যোগসাজশ করে ২০১৯ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ধীরে ধীরে স্বর্ণগুলো অলঙ্কার নিকেতন থেকে সরিয়ে নেয় আল আমিন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সিআইডি কর্মকর্তা মুহিতুল আলম বলেন, ‘কৃষ্ণ বসাক বিশ্বস্ত হওয়ায় প্রথমে তাকে মামলার আসামিও করেননি ওই স্বর্ণ ব্যবসায়ী। কিন্তু তদন্তে আয়কর নথির ফাইল দেখে কৃষ্ণ বসাককে আটক সিআইডি। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার বিষয়ে স্বীকার করেন। পরে তাকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।’ জিজ্ঞাসাবাদে এ ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে বলেও জানান তিনি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, কৃষ্ণ বসাক এই স্বর্ণগুলো তাঁতীবাজার-কেন্দ্রিক একটি চক্রের সহায়তায় স্বর্ণগুলো গলিয়ে ভিন্ন জুয়েলারি হিসেবে বিক্রি করতেন। এ ঘটনায় রাজধানীর তেজগাঁও থানায় গত বছরের ৯ আগস্ট মামলা করা হয়। এতে অভিযোগ করা হয়, প্রতিষ্ঠানটির স্টক যাচাই-বাছাইয়ের সময় দেখা যায়, গত ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে দোকান থেকে মোট ৭ হাজার ৫৫০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার (যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৯৪ কোটি ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা) আত্মসাৎ করা হয়েছে।

তদন্তে মামলায় উল্লেখিত অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে বলে জানিয়েছেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান। তিনি জানান, মামলার তদন্তে তারা জানতে পেরেছেন, গ্রেফতার অভিযুক্ত কৃষ্ণ বসাক বাদীর বাবার প্রতিষ্ঠানে সেলসম্যান থাকাকালীন অন্য সহযোগীদের নিয়ে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ আত্মসাৎ করেন।

তদন্তে আয়কর নথি ও আর্থিক লেনদেন পর্যালোচনায় আরও জানা যায়, গ্রেফতার অভিযুক্ত কৃষ্ণ বসাক সেলসম্যান হিসেবে মাসিক ১০-১৫ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করলেও তার বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত একটি জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের মালিক হিসেবে প্রায় ৩৩ লাখ টাকা বিনিয়োগ, ৪৪ লাখ ৫৫ হাজার মূল্যের একটি ফ্ল্যাট ও কার পার্কিং, পুঁজিবাজারে ১৬ লাখ ৭৮ হাজার ২৯৩ টাকার শেয়ার এবং আয়কর নথিতে ৫০ ভরি স্বর্ণ থাকার তথ্য পাওয়া যায়। এসব স্বর্ণ প্রতিষ্ঠান থেকে আত্মসাৎ করা হতে পারে বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে।

সিআইডি কর্মকর্তা জানান, গ্রেফতার অভিযুক্তের ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনায় অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্যও পাওয়া গেছে। আত্মসাৎ করা স্বর্ণ উদ্ধার ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য কৃষ্ণ বসাককে রিমান্ড আবেদন জানিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। সিআইডি জানায়, এর আগেও এই মামলায় এজাহারভুক্ত একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনিও ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মামলার তদন্তসহ ঘটনায় জড়িত অন্য অভিযুক্তদের গ্রেফতারে সিআইডির অভিযান চলছে।