সৌদি আরবের শীর্ষ ফুটবল ক্লাবগুলোর বাজারমূল্য গত এক বছরে প্রায় ৩০০ শতাংশ বেড়েছে। অথচ এই ক্লাবগুলোর হয়ে খেলেন না লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো বা নেইমারের মতো কোনো বিশ্বখ্যাত তারকা। ক্রীড়া অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ দেশটির সরকারি বিনিয়োগ এবং ভিশন ২০৩০ পরিকল্পনার আওতায় নেওয়া উদ্যোগ।
বিনিয়োগের ধারা
সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (পিআইএফ) সম্প্রতি দেশটির চারটি শীর্ষ ক্লাব—আল-হিলাল, আল-ইত্তিহাদ, আল-আহলি এবং আল-নাসর—এর ৭৫ শতাংশ শেয়ার কিনে নিয়েছে। এই বিনিয়োগের ফলে ক্লাবগুলোর আর্থিক ভিত মজবুত হয়েছে এবং তাদের ব্র্যান্ড ভ্যালু বেড়েছে। পিআইএফের লক্ষ্য হল সৌদি ফুটবলকে বিশ্বমানের করে তোলা এবং দেশটিকে ক্রীড়া পর্যটনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা।
ভিশন ২০৩০-এর প্রভাব
সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের ভিশন ২০৩০ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ক্রীড়া খাতে বিপুল বিনিয়োগ করা হচ্ছে। এই পরিকল্পনার আওতায় দেশটির অর্থনীতিকে তেলনির্ভরতা থেকে বের করে আনা এবং বিনোদন ও ক্রীড়া খাতকে সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। ফুটবল ক্লাবগুলোর মূল্যবৃদ্ধি সেই কৌশলেরই প্রতিফলন।
তারকা খেলোয়াড় না থাকলেও কেন দাম বাড়ছে?
বিশ্লেষকরা বলছেন, মেসি, রোনালদো বা নেইমারের মতো তারকা খেলোয়াড় না থাকলেও সৌদি ক্লাবগুলোর মূল্যবৃদ্ধির পেছনে কাজ করছে ব্র্যান্ডিং, স্পনসরশিপ চুক্তি এবং সম্প্রচার স্বত্বের মতো বিষয়গুলো। পিআইএফের বিনিয়োগের ফলে ক্লাবগুলো আরও পেশাদারভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং তাদের আয়ের নতুন উৎস তৈরি হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, আল-হিলাল সম্প্রতি একটি বহুজাতিক কোম্পানির সাথে বড় অঙ্কের স্পনসরশিপ চুক্তি করেছে।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
ক্রীড়া অর্থনীতিবিদ ড. ফাহাদ আল-ওতাইবি বলেন, 'সৌদি ফুটবল ক্লাবগুলোর বর্তমান মূল্যবৃদ্ধি শুধু শুরু। আগামী পাঁচ বছরে এই ক্লাবগুলোর মূল্য আরও দ্বিগুণ হতে পারে যদি বিনিয়োগের ধারা অব্যাহত থাকে।' তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, 'দীর্ঘমেয়াদে সাফল্যের জন্য ক্লাবগুলোকে নিজেদের খেলোয়াড় তৈরি এবং টিকিট বিক্রি ও পণ্য বিক্রির মতো আয়ের উৎস বাড়ানোর দিকে নজর দিতে হবে।'



