সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ সুদসহ ফেরত দেওয়া হবে: অর্থমন্ত্রী
সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ সুদসহ ফেরত

দেশের সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর আমানতকারীদের আশ্বস্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ব্যাংকগুলোতে জমা রাখা আমানতকারীদের অর্থ সুদসহ ফেরত দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে আমানতের কোনো অংশ কেটে নেওয়া বা ‘হেয়ার কাট’ নীতি প্রয়োগ করা হবে না। তবে ব্যাংকগুলোর বর্তমান আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় এই অর্থ ফেরত দিতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।

সংসদে জরুরি নোটিশের জবাবে অর্থমন্ত্রী

বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এক জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন নোটিশের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, একটি নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব হলো আর্থিক খাতের এই সংকটের একটি ন্যায়সঙ্গত সমাধান করা। সরকার জনগণের স্বার্থ রক্ষায় শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি ধৈর্য ধরার জন্য আমানতকারীদের প্রতি আহ্বান জানান।

ব্যাংক রেজুলেশন আইন ও একীভূতকরণ

অর্থমন্ত্রী জানান, ব্যাংক খাতকে স্থিতিশীল করতে সরকার ‘ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৬’ এর আওতায় বহুমাত্রিক পদক্ষেপ নিয়েছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক—এই পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে নতুন ‘ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’ গঠন করা হয়েছে। নতুন এই ব্যাংকে সংশ্লিষ্ট সব আমানতকারীর দাবি সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আমানত সুরক্ষা আইন ও ফরেনসিক অডিট

আমানতকারীদের সুরক্ষায় সরকার নতুন আইন ও বিধিনিষেধে বড় পরিবর্তন এনেছে। ‘আমানত সুরক্ষা আইন, ২০২৬’ অনুযায়ী বর্তমানে সুরক্ষিত আমানতের সীমা ১ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া ব্যাংকগুলোর ঋণ অনিয়ম ও অর্থপাচারের ঘটনা তদন্তে বিশেষ ফরেনসিক অডিট চালানো হচ্ছে। ব্যাংক রেজুলেশন আইনের ৫৭ ধারার আওতায় দায়ী ব্যক্তিদের সম্পদ ও আয় রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে এসব সম্পদ নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে আমানতকারীদের অর্থ পুনরুদ্ধার করা হবে। একই সাথে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

সংসদ সদস্যের বক্তব্য ও অর্থমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া

জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু ব্যাংক খাতের দুর্নীতি ও অর্থপাচারের বিষয়টি উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, ব্যাংকগুলোর বর্তমান সংকটে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা, সন্তানের শিক্ষা এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার মূলধন আটকে যাওয়ায় তীব্র মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। তিনি ব্যাংক লুটেরাদের কঠোর বিচারের মুখোমুখি করা এবং তাদের সম্পদ নিলামে বিক্রি করে দ্রুত আমানতকারীদের পাওনা পরিশোধের দাবি জানান। অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে পুনরুল্লেখ করেন যে, অনিয়মকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।