ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিকে ঘিরে চলমান বিতর্ক ও উদ্বেগের মধ্যে 'সচেতন ভোক্তা ফোরাম' ব্যাংকটির চেয়ারম্যান অপসারণসহ সাত দফা দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, শনিবারের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নে উদ্যোগ না নেওয়া হলে রোববার ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে।
প্রেস কনফারেন্সে ঘোষণা
ফোরামের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র অধ্যাপক নূর উন-নবী শনিবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমকে অপসারণ করে ব্যাংকিং খাতে অভিজ্ঞ, সৎ ও পেশাদার কাউকে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া উচিত। একইসঙ্গে ব্যাংকটির মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিতর্কিত কোনো উদ্যোগ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন
জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে নূর উন-নবী বলেন, যেহেতু সংসদ দেশের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান, তাই সেখানে উপস্থাপিত তথ্যের প্রতি জনগণের আস্থা রয়েছে। তাই এ বিষয়ে কোনো তথ্যগত অসঙ্গতি থাকলে তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
সাত দফা দাবি
লিখিত বিবৃতিতে সচেতন ভোক্তা ফোরাম সাতটি দাবি উত্থাপন করে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যানকে অপসারণ করে ইসলামী ব্যাংকিংয়ে দক্ষ ও পেশাদার কাউকে নিয়োগ দেওয়া, ব্যাংকটির মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া তদন্ত করে প্রকৃত মালিকদের অধিকার নিশ্চিত করা, ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা, ব্যাংকিং খাতে অনিয়মে জড়িতদের পুনরায় প্রভাবশালী হতে না দেওয়ার জন্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া, এবং জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ইসলামী ব্যাংক সংক্রান্ত বক্তব্য প্রত্যাহার করা।
স্থিতিশীলতা বজায় রাখার আহ্বান
সংগঠনটি দাবি করে, ইসলামী ব্যাংক ও অন্যান্য ইসলামী ব্যাংকের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকা এবং ভুল তথ্য প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
গ্রাহকদের উদ্বেগ
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্ক গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ফলে অনেক আমানতকারী আতঙ্কিত হয়ে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিচ্ছেন। তাদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত সমাধানে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সরকারের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।



