সোনার দামে পতন: ভরিতে ২,২১৬ টাকা কমল, ২২ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা
সোনার দামে পতন: ভরিতে ২,২১৬ টাকা কমল

সোনার দামে পতন: ভরিতে ২,২১৬ টাকা কমল, ২২ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা

দেশের বাজারে আবারও সোনার দাম কমেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) আজ মঙ্গলবার সকালে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।

বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে সোনার নতুন দাম

বাজুসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিভিন্ন ক্যারেটের সোনার দাম নিম্নরূপ:

  • ২২ ক্যারেট সোনা: ভরিপ্রতি ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা
  • ২১ ক্যারেট সোনা: ভরিপ্রতি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৩ টাকা
  • ১৮ ক্যারেট সোনা: ভরিপ্রতি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৫৯ টাকা
  • সানাতনী পদ্ধতির সোনা: ভরিপ্রতি ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সোনার বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট আবশ্যিকভাবে যুক্ত হবে।

দাম কমানোর কারণ

বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। তবে মূল কারণ হলো বিশ্ববাজারে সোনার দাম কমে যাওয়া। গতকাল সোমবার বিশ্ববাজারে সোনার দাম আবার ৫ হাজার ডলারের নিচে নেমে এসেছে। গতকাল বিশ্ববাজারে সোনার দাম আউন্সপ্রতি প্রায় ৯০ ডলার কমেছে। একই সঙ্গে রুপার দামও কমেছে।

পূর্ববর্তী দাম সমন্বয়

এর আগে সর্বশেষ ৯ ফেব্রুয়ারি দেশের বাজারে সোনার দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা। মাঝে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের ছুটির মধ্যে সোনার দাম আর সমন্বয় করেনি বাজুস।

জানুয়ারি মাসের অস্থিরতা

জানুয়ারি মাসের শেষ দিক থেকেই দেশের বাজারে সোনার দামে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এমনও হয়েছে, সকালে মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দিয়ে রাতে আবার কমানো হয়েছে। ২৯ জানুয়ারি সোনার দাম ভরিপ্রতি সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বেড়েছিল। এতে ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম দাঁড়ায় ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। এ পর্যন্ত দেশের ইতিহাসে এটাই সোনার সর্বোচ্চ দাম।

বিশ্ববাজারের প্রভাব

মূলত বিশ্ববাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানো-কমানো হয়। গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার মার্কিন শেয়ারবাজারে বড় পতনের পর বিক্রির চাপ বাড়ায় সোনার দর ৩ শতাংশ কমে যায়। সেদিনও সোনার দাম আউন্সপ্রতি ৫ হাজার ডলারের নিচে নেমে আসে। তবে গত শনিবার সোনার দাম আবার ৫ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যায়।

সোনার দামের এই ওঠানামা ক্রেতা ও বিক্রেতাদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্ববাজারের অবস্থা এবং স্থানীয় চাহিদার উপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতেও সোনার দামে পরিবর্তন হতে পারে।