অর্থমন্ত্রী: সরকারের সঙ্গে এস আলম গ্রুপের সমঝোতার কোনো সুযোগ নেই
সংসদে এক প্রশ্নোত্তর পর্বে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, সরকারের সঙ্গে এস আলম গ্রুপের সমঝোতার কোনো সম্ভাবনা নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিএনপির রাজনীতিতে অর্থনৈতিক কার্যক্রমে কারও সঙ্গে সমঝোতা করার কোনো সুযোগ রাখা হয়নি।
হাসনাত আবদুল্লাহর প্রশ্ন ও অর্থমন্ত্রীর জবাব
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ সংসদে প্রশ্ন তোলেন, ইসলামী ব্যাংক ও জনতা ব্যাংক থেকে এস আলম গ্রুপের বিপুল ঋণখেলাপি হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের বিশেষ পরিকল্পনা আছে কি না। তিনি জানতে চান, ঋণ পরিশোধ না করে কীভাবে গ্রুপটিকে পুনর্বহাল করার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং সরকারের সঙ্গে তাদের সমঝোতা হয়েছে কি না।
অর্থমন্ত্রী জবাবে বলেন, বিএনপির রাজনীতিতে অর্থনৈতিক কার্যক্রমের মধ্যে কারও সঙ্গে সমঝোতা করার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বিএনপির পূর্ববর্তী সরকারগুলোর সময় আর্থিক শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার অভিযোগ উল্লেখ করেন।
ব্যাংক রেজোল্যুশন আইন সংশোধন: 'নিউ উইন্ডো'
গতকাল ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক সমন্বয় পরিষদের বিক্ষোভে ব্যাংক রেজোল্যুশন আইন সংশোধনের পেছনে এস আলম গ্রুপকে পুনর্বাসনের উদ্দেশ্য থাকার অভিযোগ উঠেছিল। অর্থমন্ত্রী এ বিষয়ে বলেন, কেউ ফিরে আসার জন্য এই সংশোধনী আনা হয়নি। তিনি এটিকে 'নিউ অপরচুনিটি' ও 'নিউ উইন্ডো' হিসেবে বর্ণনা করেন, যার মাধ্যমে বিদ্যমান শেয়ারধারী বা নতুন বিনিয়োগকারীরা সুযোগ পেতে পারেন।
জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম সম্পূরক প্রশ্নে বলেন, সংশোধনীর মাধ্যমে অল্প টাকায় ফেরত আসার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আবারও জোর দিয়ে বলেন, বিএনপি কোনো ব্যক্তির পৃষ্ঠপোষকতায় অর্থনীতিতে বিশ্বাস করে না এবং এবারও সে সুযোগ নেই।
ঋণ পুনরুদ্ধারে জোর প্রচেষ্টা
এস আলম গ্রুপের ঋণ পুনরুদ্ধার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বিস্তারিত তথ্য দেন। তিনি জানান, গ্রুপটির বিরুদ্ধে ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড, সাইপ্রাস, জার্সি ও সিঙ্গাপুরে এমএলএআর পাঠানো হয়েছে। ফৌজদারি ও দেওয়ানি পদ্ধতিতে কার্যক্রম চলছে, এবং চারটি বিদেশি আইনি প্রতিষ্ঠান সম্পদ অনুসন্ধান করছে।
তিনি উল্লেখ করেন, আদালত এস আলম গ্রুপের স্থায়ী সম্পদ, ব্যাংক হিসাব ও শেয়ার জব্দের আদেশ দিয়েছে। বিদেশে সম্পদ জব্দের জন্য চারটি দেশে এমএলএআর পাঠানো হয়েছে এবং চারটি রেড নোটিশ জারি করা হয়েছে।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
অর্থমন্ত্রী আরও জানান:
- এস আলম গ্রুপের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের ব্যাংক হিসাবে ২৪৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা ও বিও হিসাবে ৮১৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
- দুর্দশাগ্রস্ত পাঁচ ব্যাংকের (ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক) আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য ব্যাংক রেজোল্যুশন স্কিম ২০২৫ প্রণয়ন করা হয়েছে।
- বর্তমানে সরকারের বৈদেশিক ঋণের স্থিতি ৭৮ হাজার ৬৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, এবং বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর ৯০.৬৬ মিলিয়ন ডলার ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী শেষে বলেন, ঋণ পুনরুদ্ধার ও আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সরকারের জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে, এবং আগামী বাজেটে এর ইতিবাচক ফল দেখা যাবে।



