রপ্তানি আয় ১৫০ বিলিয়ন ডলার ছাড়ানোর সম্ভাবনা: বাণিজ্যমন্ত্রী
রপ্তানি আয় ১৫০ বিলিয়ন ডলার ছাড়ানোর সম্ভাবনা

তৈরি পোশাক খাতের পাশাপাশি সম্ভাবনাময় আরও কয়েকটি খাতে নীতিগত সহায়তা বাড়ানো গেলে দেশের রপ্তানি আয় ১৫০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বুধবার অনুষ্ঠিত এক সভায় তিনি বলেন, এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এখন থেকেই রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও খাতভিত্তিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দিতে হবে।

রপ্তানি বহুমুখীকরণের ওপর জোর

তৈরি পোশাক শিল্পের বাইরে আরও পাঁচ থেকে ছয়টি খাতে কার্যকর নীতিসহায়তা দেওয়া সম্ভব হলে দেশের রপ্তানি আয়ে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি অর্জন করা যাবে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, চামড়া ও পাটখাতের উন্নয়নে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

গবেষণা প্রতিবেদনের সুপারিশ

সভায় গবেষণা প্রতিষ্ঠান র‍্যাপিড এলডিসি-পরবর্তী সময়ে রপ্তানি খাতের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে একটি গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করে। এতে সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাতগুলো চিহ্নিত করে তাদের সক্ষমতা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। র‍্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, জাতিসংঘে করা আবেদনের ভিত্তিতে বাংলাদেশ এলডিসি উত্তরণের জন্য আরও তিন বছর সময় পেতে পারে। তবে এই অতিরিক্ত সময় যথাযথভাবে কাজে লাগানো না গেলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জিএসপি প্লাস ও শুল্ক সুবিধা সীমিত হওয়ার আশঙ্কা

গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের জিএসপি প্লাস সুবিধা পেলেও বাজারে বাংলাদেশের উচ্চ হিস্যার কারণে শুল্ক সুবিধা সীমিত হতে পারে। পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজারে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি চামড়াজাত পণ্যও প্রতিযোগিতামূলক চাপে পড়তে পারে। এ ছাড়া হোম টেক্সটাইল, কৃষিপণ্য ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য খাতে ভারত, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও চীনের বাজারে রপ্তানি শূন্য দশমিক ২ শতাংশ থেকে ১২৭ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়ার আশঙ্কার কথাও গবেষণায় তুলে ধরা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বর্তমান রপ্তানি পরিস্থিতি ও প্রতিবন্ধকতা

র‍্যাপিডের নির্বাহী পরিচালক ড. এম আবু ইউসুফ বলেন, বর্তমানে কৃষি ও উৎপাদন খাত মিলিয়ে ১ মিলিয়ন ডলারের বেশি রপ্তানি করে এমন পণ্যের সংখ্যা ১ হাজার ৩৯৪। এসব খাতের ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতা দূর করার পাশাপাশি বিদ্যমান রপ্তানি প্রণোদনার বিকল্প সহায়তা ব্যবস্থা নিয়ে ভাবতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর ও পাটশিল্পে এমওইউ

সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে বাস্তবভিত্তিক বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন চীন সফরে পাটশিল্প উন্নয়নে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আরও বলেন, চলতি বছরের নভেম্বরে না হলেও আগামী তিন বছরের মধ্যে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণ করবে। তাই সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এখন থেকেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে।