সুনামগঞ্জে পশুর হাটের পাশে ঘাসের হাট, লাখ টাকার বিক্রি
সুনামগঞ্জে পশুর হাটের পাশে ঘাসের হাট

সুনামগঞ্জ শহরের বালুর মাঠ এলাকায় পশুর হাটের পাশাপাশি বসেছে ঘাসের হাট। এই হাট থেকে গবাদিপশু কেনার পর জবাইয়ের আগ পর্যন্ত খাবার জোগান দিতে কিনতে হয় ঘাস, খড় ও লতাপাতা। প্রতিদিন এই হাটে লাখ টাকার ঘাস বিক্রি হয়। হাওর থেকে নিয়ে আসা শ্রমজীবী মানুষের কাছ থেকে কম দামে কিনে ২০ জন মৌসুমি ব্যবসায়ী এসব ঘাস বিক্রি করেন। এতে দ্বিগুণ আয় করছেন তারা।

ঘাসের হাটের বর্ণনা

সোমবার (২৫ মে) বিকালে সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের উকিলপাড়া পয়েন্ট সংলগ্ন সড়কের পাশে দেয়াল ঘেঁষে বসেছে ঘাসের হাট। হাওর থেকে খাস ও খড় নিয়ে এসেছেন শ্রমজীবী লোকজন ও কৃষকরা। সেগুলো সাজিয়ে রেখেছেন। পরে প্রতি আঁটি ধরে পাইকারিতে ২০-২৫ টাকায় কিনছেন হাটের মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। তাদের কাছ থেকে কিনে নিয়ে ৪০-৫০ টাকায় আঁটি বিক্রি করছেন। পাশাপাশি ৩০-৩৫ টাকায় খড়ের আঁটি কিনে ৫০-৬০ টাকা বিক্রি করছেন। কোরবানির পশু কেনার পর এসব ঘাস কিনে নিয়ে যাচ্ছেন লোকজন।

ব্যবসায়ীদের অভিজ্ঞতা

শহরের আফতাবনগরের বাসিন্দা মৌসুমি ঘাস ব্যবসায়ী কামাল হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি ১০ বছর ধরে এই হাটে ঘাস বিক্রি করি। প্রত্যেকবার কোরবানির ঈদের পাঁচ-ছয় দিন ঘাস বিক্রি হয়। হাওর থেকে ঘাস কিনে ইজিবাইক ও রিকশায় করে বাজারে আনি। অনেক সময় অনেকে ফোনে যোগাযোগ করলে হাওর থেকে কিনে পাঠিয়ে দিই তাদের বাড়িতে। চিনাউড়া, পলাশ, বালাকান্দা, ডলুরা, বিশ্বম্ভরপুর থেকে এসব ঘাস আনা হয়। প্রতিদিন ১০টি চালান বিক্রি হয়। আঁটির আকার অনুযায়ী পাইকারিতে ১৫ থেকে ২৫ টাকা কিনতে হয়। পরিবহন খরচ যোগ করে ৫০ টাকায় বিক্রি করি আঁটি। এতে বেশ লাভ থাকে আমার।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সদরের দরিয়াবাজ গ্রামের জামাল উদ্দিন বলেন, ‘প্রতি বছর কোরবানির ঈদে এখানে ঘাসের হাট বসে। আমি আট বছর ধরে এখানে ঘাস বিক্রি করে আসছি। হাওর এলাকা থেকে ঘাস কেটে নিয়ে আসেন কৃষকরা। তাদের কাছ থেকে কিনে বাজারে বিক্রি করি। এতে দিনে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা লাভ হয়।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিক্রির পরিমাণ ও আবহাওয়ার প্রভাব

আজ সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়া ছিল। এতে ঘাস বিক্রি কম হয়েছে। বিকালে আবহাওয়া ভালো থাকায় খামারি, কৃষক ও কোরবানিদাতারা ঘাসের জন্য হাজির হন হাটে। ঘাসের পাশাপাশি খড় ও হেলেঞ্চা কিনে নিয়ে যান।

একাধিক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, এই হাটে ঘাসের মৌসুমি ব্যবসায়ী রয়েছেন ২০ জন। একেক জনে দিনে অন্তত পাঁচ-ছয় হাজার টাকার ঘাস বিক্রি করেন। আগামী কয়েকদিন বিক্রি আরও বাড়বে। এই পাঁচ-ছয় দিনে একেক জন ব্যবসায়ী অন্তত ৭০-৮০ হাজার টাকার ঘাস বিক্রি করতে পারবেন।