ঈদযাত্রা শুরু: সদরঘাটে ঘরমুখো মানুষের ভিড়
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে শুরু হয়েছে ঘরমুখো মানুষের বাড়ি ফেরা। দিনের বিভিন্ন সময় থেমে থেমে বৃষ্টি হলেও তা উপেক্ষা করেই দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার উদ্দেশ্যে লঞ্চে চড়ছেন যাত্রীরা। তবে সরকারি অফিস শেষ হলেও রবিবার (২৪ মে) তুলনামূলক যাত্রীর চাপ কিছুটা কম ছিল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
লঞ্চ টার্মিনালে দৃশ্য
রবিবার রাতে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, যাত্রীরা পরিবার-পরিজন নিয়ে লঞ্চঘাটে আসছেন। কেউ মাথায় ব্যাগ, কেউ হাতে শিশু নিয়ে লঞ্চে উঠছেন। টার্মিনালের বিভিন্ন পন্টুনে ছিল বাড়ি ফেরার ব্যস্ততা, তবে অন্যান্য ঈদের আগের সময়ের মতো অতিরিক্ত ভিড় চোখে পড়েনি।
লঞ্চ চলাচলের তথ্য
বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানায়, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সদরঘাট থেকে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে ৭০টির বেশি লঞ্চ ছেড়ে গেছে। বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, মাদারীপুর, ঝালকাঠি, বরগুনাসহ বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রীরা রওনা হয়েছেন।
যাত্রীদের অভিজ্ঞতা
রাজধানীর মগবাজার থেকে মাদারীপুরে যাচ্ছিলেন আবুল কালাম। তিনি বলেন, “অফিস শেষ হওয়ার আগেই বের হয়েছি যাতে ঝামেলা ছাড়া বাড়ি যেতে পারি। রাস্তায় যানজট কম ছিল। সদরঘাটে এসে দেখি লঞ্চেও বেশি ভিড় নেই। আশা করছি স্বস্তিতে বাড়ি পৌঁছাতে পারবো।”
টঙ্গী থেকে পরিবার নিয়ে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে যাচ্ছিলেন ইকবাল হোসেন। তিনি বলেন, “পথে বৃষ্টিতে ভিজতে হয়েছে। তারপরও পরিবারের সবাইকে নিয়ে বাড়ি যাচ্ছি, এজন্য ভালো লাগছে।” লঞ্চে ভিড় কম থাকায় যাত্রাও আরামদায়ক হবে বলে জানান তিনি।
বরিশালের মুলাদির উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া ইয়াকুব মিয়া বলেন, “বৃষ্টি থাকলেও বাড়ি তো যেতেই হবে। আল্লাহর রহমতে পথে কোনও ঝামেলা হয়নি। এখন শান্তিতে বাড়ি ফিরতে পারলেই ভালো।”
পরিবার নিয়ে ভ্রমণ
সদরঘাটে দেখা যায়, অনেক যাত্রী আগেভাগেই টার্মিনালে এসে লঞ্চে উঠছেন। কেউ কেউ কেবিন বুকিং নিশ্চিত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। পরিবার নিয়ে যাত্রা করা যাত্রীদের মধ্যে শিশু ও নারীর সংখ্যাও ছিল চোখে পড়ার মতো।
ভোলার লালমোহনের যাত্রী রাশেদা বেগম বলেন, “প্রতি ঈদেই লঞ্চে বাড়ি যাই। এবার ভিড় কম থাকায় একটু স্বস্তি লাগছে। বাচ্চাদের নিয়ে ভিড়ের মধ্যে চলাফেরা করা কষ্টকর হয়।”
বরিশালগামী এক কলেজ শিক্ষার্থী নাঈম হাসান বলেন, “বাসের তুলনায় লঞ্চ ভ্রমণ অনেক স্বস্তির। এবার আগেই কেবিন বুক করে রেখেছিলাম। তাই কোনও ঝামেলা হয়নি।”
লঞ্চ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
এমভি সুন্দরবন-১৫ লঞ্চের কেরানি আবুল কালাম বলেন, “আজ সরকারি ছুটি শুরু হলেও যাত্রী চাপ খুব বেশি না। তবে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কিছুটা বেশি যাত্রী রয়েছে। আশা করছি আগামীকাল থেকে চাপ বাড়বে।”
বিআইডব্লিউটিএর বার্দিং সারেং এসএম মামুন বলেন, “আজ কেবিনের যাত্রী তুলনামূলক বেশি যাচ্ছে। এখনও বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়নি। তবে ঈদের বাকি কয়েকদিনে যাত্রী সংখ্যা অনেক বাড়বে বলে ধারণা করছি।” তিনি আরও বলেন, “নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিতে প্রতিটি লঞ্চে অতিরিক্ত নজরদারি রাখা হয়েছে। অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করতে মালিক ও স্টাফদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
বিনামূল্যে মালামাল বহন সেবা
অপরদিকে গত ঈদের মতো এবারও সদরঘাটে কুলিদের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে মালামাল বহনের সেবা চালু করা হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএর টোল কালেক্টর মো. শামসুল আলম খান বলেন, “ঈদের আগে ও পরে মোট ১০ দিন যাত্রীদের মালামাল বিনামূল্যে ট্রলির মাধ্যমে লঞ্চে পৌঁছে দেওয়া হবে। এতে যাত্রীরা বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন।”
নিরাপত্তা ব্যবস্থা
সদরঘাট নৌ-থানার এক কর্মকর্তা জানান, ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে ঘাট এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাদা পোশাকেও নজরদারি চলছে।
আগামী দিনের পূর্বাভাস
এদিকে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘাট এলাকায় বাড়তে থাকে যাত্রীদের উপস্থিতি। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, সোমবার সকাল থেকে সদরঘাটে ঈদযাত্রার প্রকৃত চাপ শুরু হবে।



