উইম্বলডনের মাঠে ঐতিহ্যবাহী সাদা পোশাকের রীতি ভেঙে জাপানি টেনিস তারকা নাওমি ওসাকা নজর কেড়েছেন তাঁর কিমোনো-অনুপ্রাণিত পোশাকে। ২৯ জুন টুর্নামেন্টের প্রথম দিনে তিনি টোকিওভিত্তিক ডিজাইনার হানা ইয়াগির তৈরি বিশেষ গাউন পরে কোর্টে আসেন, যা পাশ্চাত্যের নামি ফ্যাশন ম্যাগাজিনগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
পোশাকের নকশা ও অনুপ্রেরণা
ওসাকার গাউনটি জাপানি ঐতিহ্যবাহী কিমোনো ও অভিজাত নারীদের বহুস্তর পোশাক জুনিহিতোয়ে থেকে অনুপ্রাণিত। ভিনটেজ কিমোনো ও ঐতিহ্যবাহী শিরোমুকু বিয়ের পোশাকসহ সাত ধরনের পুরোনো কাপড় পুনর্ব্যবহার করে এটি তৈরি করা হয়। পোশাকে ছিল সারস পাখি ও চেরি ফুলের সূচিকর্ম। ‘কিল বিল’ সিনেমায় লুসি লিউ অভিনীত ও-রেন ইশির সাদা কিমোনোর লুকও এই নকশার অনুপ্রেরণা ছিল। গাউনের নিচে তিনি পরেছিলেন জাপানি কিরিগামি শিল্প থেকে অনুপ্রাণিত সাদা নাইকি টেনিস ড্রেস।
ওসাকার ফ্যাশন দর্শন
‘ব্রিটিশ ভোগ’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওসাকা বলেন, ‘ফ্যাশন শুধু পোশাক নয়, গল্প বলারও একটি মাধ্যম। উইম্বলডনের ঐতিহ্যই আমাকে নিজ সংস্কৃতির শিকড়কে নতুনভাবে তুলে ধরতে অনুপ্রাণিত করেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘কোর্টে প্রবেশের প্রতিটি মুহূর্তই আমার সৃজনশীল জগতের অংশগুলো তুলে ধরার সুযোগ।’
পূর্ববর্তী ফ্যাশন মুহূর্ত
এটি প্রথমবার নয় যে ওসাকা কোর্টে ফ্যাশন স্টেটমেন্ট দিয়েছেন। ২০২৬ সালের মে মাসে ফ্রেঞ্চ ওপেনে তিনি নাইকির তৈরি বিশেষ টেনিস ড্রেস পরেছিলেন, যার ওপরে সুইস ডিজাইনার কেভিন জার্মানিয়ের তৈরি কালো করসেট ও প্লিটেড স্কার্ট ছিল। পোশাকটি তাঁর পুরোনো টেনিস কিটের পুনর্ব্যবহৃত উপকরণ দিয়ে তৈরি করা হয়। নাইকির স্টাইলিস্ট মার্টি হার্পার ও কেভিন জার্মানিয়ের যৌথ উদ্যোগে এই লুক তৈরি হয়েছিল, যার নাম দেওয়া হয় ‘কোর্ট-উরে’ (কোর্টওয়্যার ও কতুরের মিশেল)। তামাটে-সোনালি রঙের পোশাকে ছিল ঝলমলে সিকুইন ও ধাতবের কাজ, তবে এটি পুরোপুরি খেলার উপযোগী ছিল। ওসাকা জানিয়েছিলেন, সিকুইনের চমক বেশি হতে পারে ভেবে তিনি সঙ্গে দুটি অতিরিক্ত পোশাকও এনেছিলেন, যাতে আম্পায়ার পোশাক বদলাতে বললে পরিবর্তন করতে পারেন।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের প্রথম রাউন্ডের আগে ওসাকা ব্রিটিশ কতুর ডিজাইনার রবার্ট উনের তৈরি জেলিফিশ-অনুপ্রাণিত পোশাক পরে কোর্টে নামেন। তাঁর মেয়ে শাইয়ের জেলিফিশের প্রতি ভালোবাসা থেকে অনুপ্রাণিত এই লুকে ছিল চওড়া সাদা টুপি, মেঝে ছোঁয়া ভেইল, ছাতা এবং সবুজ-নীল টাই-ডাই নকশার লেয়ারিং পোশাক। ম্যাচ শুরুর আগে বাইরের স্তর খুলে তিনি নাইকির টেনিস ড্রেস পরে খেলায় নামেন। রবার্ট উন, যিনি এর আগে আরিয়ানা গ্রান্ডে, বিয়ন্সে ও লেডি গাগার মতো তারকাদের পোশাক ডিজাইন করেছেন, বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া ওপেনে পরা ওসাকার পোশাকটির অনুপ্রেরণা ছিল ২০২১ সালে এই খেলোয়াড়ের মুখে শোনা প্রজাপতির এক ঘটনা থেকে। সেই স্মৃতির অনুপ্রেরণায় ওসাকার টুপি ও ছাতাজুড়ে ছিল সাদা প্রজাপতির মোটিফ। কাজটি করার অভিজ্ঞতা অনেকটা নাচের মতো।’
প্রভাব
ওসাকার ফ্যাশন শুধু টেনিস কোর্টেই নয়, বরং টেকসই ফ্যাশন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তির প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাঁর পোশাক পুনর্ব্যবহার ও ঐতিহ্যবাহী নকশার মিশেলে আধুনিক ফ্যাশনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।



