শিমলায় বাংলাদেশের টেবিল টেনিস জয়জয়কার: ৮ পদক নিশ্চিত, স্বর্ণের পর রৌপ্য-ব্রোঞ্জ
ভারতের শিমলায় অনুষ্ঠিত সাউথ এশিয়ান ইয়ুথ টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম তিন দিনে বাংলাদেশ দুর্দান্ত সাফল্য অর্জন করেছে। অনূর্ধ্ব-১৯ বালক দলের ঐতিহাসিক স্বর্ণপদক জয়ের পর শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বাংলাদেশ আরও ১টি রৌপ্য ও ৫টি ব্রোঞ্জসহ মোট ৮টি পদক নিশ্চিত করেছে, যা দেশের টেবিল টেনিস ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অনূর্ধ্ব-১৯ বালক দলের স্বর্ণ ও রৌপ্যের সাফল্য
টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় দিনে বৃহস্পতিবার অনূর্ধ্ব-১৯ বালক দলগত ইভেন্টে স্বর্ণপদক জিতে চমক দেখিয়েছিল বাংলাদেশ। আজ অনূর্ধ্ব-১৯ বালক দ্বৈতে নাফিজ ইকবাল ও আবুল হাশেম হাসিব জুটি কোয়ার্টার ফাইনালে মালদ্বীপকে এবং সেমিফাইনালে নেপালকে ৩-১ সেটে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছেন। এর মাধ্যমে অন্তত রৌপ্য নিশ্চিত হলো তাদের; এখন লক্ষ্য ভারতের বিপক্ষে স্বর্ণ জয়।
একক ইভেন্টে বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের অগ্রগতি
একক ইভেন্টে এখনও পদকের লড়াইয়ে টিকে আছেন বাংলাদেশের এক নম্বর বালিকা খেলোয়াড় খই খই সাই মারমা। অনূর্ধ্ব-১৯ বালক বিভাগে নাফিজ ইকবাল, আবুল হাশেম হাসিব ও অনূর্ধ্ব-১৫ বালক বিভাগে মো. মিদুল রহমান প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছেন।
অনূর্ধ্ব-১৯ বালিকা এককে খই খই সাই মারমা ভারতের অনন্যা মুরালিধরনের কাছে ৩-০ সেটে হেরে গেলেও মালদ্বীপের মোহাম্মদ ইব্রাহিম মিশকাতকে ৩-২ সেটে হারিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হন। কোয়ার্টার ফাইনালে তিনি শ্রীলঙ্কার শামালশা হালাওয়াথাগের মুখোমুখি হবেন।
অনূর্ধ্ব-১৯ বালক এককে নাফিজ ইকবাল টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ র্যাংকধারী প্রিয়ানুজ ভট্টাচার্যের কাছে ০-৩ সেটে পরাজিত হলেও মালদ্বীপের এয়ন ইব্রাহিমকে একই ব্যবধানে হারিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হন। কোয়ার্টার ফাইনালে তিনি নেপালের হিমাল বিস্তার মুখোমুখি হবেন।
অপরদিকে আবুল হাশেম হাসিব নেপালের হিমাল বিস্তার কাছে হেরে গেলেও পরবর্তীতে শ্রীলঙ্কার হারিন মুনাসিংহ এবং মালদ্বীপের মোহাম্মদ রাফিউকে ৩-০ সেটে হারিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হন। কোয়ার্টারে তার প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কার আকাইন রাজাভেলু।
অনূর্ধ্ব-১৫ বিভাগে বাংলাদেশের ব্রোঞ্জ পদক
অনূর্ধ্ব-১৫ বালক এককে মো. মিদুল রহমান ভারতের অক্ষয় কিরিকারারের কাছে ০-৩ সেটে হেরে গেলেও নেপালের বিরুদ্ধে ৩-২ সেটে জিতে গ্রুপ রানার্সআপ হন। প্রি-কোয়ার্টারে তার প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কার সানন মেনুয়েলগে।
অনূর্ধ্ব-১৫ বালক দ্বৈতে মো. শাহীন আহমেদ ও মো. মিদুর রহমান মালদ্বীপের মোহাম্মদ রাফিউ ও ফাজ লতিফ জুটিকে ৩-২ সেটে হারান। তবে সেমিফাইনালে তারা ভারতের রিসান চট্টোপাধ্যায় ও আকাশ রাজাভেলু জুটির কাছে ১-৩ সেটে পরাজিত হয়ে ব্রোঞ্জ নিশ্চিত করেন।
অনূর্ধ্ব-১৫ বালিকা দ্বৈতে মোসা. রাফিয়া চৌধুরী ও রোজা ইসলাম কোয়ার্টার ফাইনালে বাই পেয়ে সেমিফাইনালে ওঠেন। সেখানে তারা নেপালের আরসানা মহারাজ ও সুরম্য শাক্য জুটির কাছে ১-৩ সেটে হেরে ব্রোঞ্জ পান।
অনূর্ধ্ব-১৯ বিভাগে রৌপ্য ও ব্রোঞ্জের ধারাবাহিকতা
অনূর্ধ্ব-১৯ বালক দ্বৈতে নাফিজ ইকবাল ও আবুল হাশেম হাসিব কোয়ার্টার ফাইনালে মালদ্বীপ জুটিকে ৩-০ সেটে হারান। সেমিফাইনালে তারা নেপালের হিমাল বিস্তা ও এরিশ শাক্য জুটিকে ৩-১ সেটে পরাজিত করে বাংলাদেশের জন্য রৌপ্য নিশ্চিত করেন। ফাইনালে তারা ভারতের বিপক্ষে খেলবেন।
অনূর্ধ্ব-১৯ বালিকা দ্বৈতে খই খই সাই মারমা ও রেশমী তৈঞ্চঙ্গা সেমিফাইনালে নেপালের বিপক্ষে ০-৩ সেটে হেরে ব্রোঞ্জ অর্জন করেন।
মিশ্র দ্বৈতে ব্রোঞ্জ পদকের যোগ
মিশ্র দ্বৈতে অনূর্ধ্ব-১৫ বিভাগে মো. মিদুল রহমান ও রোজা ইসলাম নেপালের রিভান বজ্রাচার্য ও সুরম্য শাক্য জুটিকে ৩-২ সেটে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠে আরও একটি ব্রোঞ্জ নিশ্চিত করেন। সেমিফাইনালে তারা ভারতের বিপক্ষে খেলবেন। অনূর্ধ্ব-১৯ মিশ্র দ্বৈতে আবুল হাশেম হাসিব ও খই খই সাই মারমা সেমিফাইনালে পৌঁছে ব্রোঞ্জ নিশ্চিত করেছেন। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ মালদ্বীপের জুটি।
এই চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স দক্ষিণ এশিয়ার টেবিল টেনিস অঙ্গনে দেশের ক্রমবর্ধমান শক্তির প্রমাণ দিচ্ছে, যা ভবিষ্যতের জন্য আশাব্যঞ্জক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



