সাউথ এশিয়ান ইয়ুথ টেবিল টেনিসে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ বালক দলের স্বর্ণজয়
টেবিল টেনিসে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ বালক দলের স্বর্ণজয়

সাউথ এশিয়ান ইয়ুথ টেবিল টেনিসে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ বালক দলের স্বর্ণজয়

বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ বালক টেবিল টেনিস দল একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। তারা সাউথ এশিয়ান ইয়ুথ টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে স্বর্ণ পদক জিতেছে। এই জয়ের মাধ্যমে দলটি আগামী ২১-২৭ জুন ওমানের রাজধানী মাস্কাটে অনুষ্ঠিতব্য আইটিটিএফ-এটিটিইউ এশিয়ান ইয়ুথ চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করেছে। এটি বাংলাদেশের জন্য একটি গর্বের মুহূর্ত, যা দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ করেছে।

বাংলাদেশের টেবিল টেনিসের ইতিহাসে উজ্জ্বল অধ্যায়

বাংলাদেশের টেবিল টেনিস দল পূর্বেও বেশ কয়েকটি সাফল্য অর্জন করেছে। ২০২২ সালে মালদ্বীপে অনুষ্ঠিত প্রথম সাউথ এশিয়ান জুনিয়রে অনূর্ধ্ব-১৯ বালকরা স্বর্ণপদক জিতেছিল। তখন স্বর্ণজয়ী দলের সদস্য ছিলেন মুহতাসিন আহমেদ হৃদয়, রামহিমলিয়ন বম, নাফিজ রেজা এবং আবুল হাসেম হাসিব। তাছাড়া ২০২৩ সালে ভারতের অরুনাচল এবং ২০২৪ সালে শ্রীলঙ্কার ক্যান্ডিতে বাংলাদেশ রৌপ্যপদক জিতেছিল। গতবছর নেপালের কাঠমান্ডুতেও ব্রোঞ্চ পদক পেয়েছিল বাংলাদেশ। এই ধারাবাহিক সাফল্যগুলো বাংলাদেশের ক্রীড়া ক্ষমতা ও উন্নয়নের প্রতিফলন ঘটায়।

প্রতিযোগিতার বিস্তারিত বিবরণ

ভারতের হিমাচল প্রদেশের শিমলায় ৮-১১ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশ শক্তিশালী শ্রীলঙ্কাকে ৩-১ সেটে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে স্বর্ণপদক নিশ্চিত করে। গ্রুপে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও নেপাল তিনটি দল সমান ৫ পয়েন্ট অর্জন করলেও সেট ব্যবধানে এগিয়ে থেকে শীর্ষস্থান দখল করে বাংলাদেশ। ম্যাচের শুরুতে শ্রীলঙ্কার ভিয়ানদুয়া আকাইনের কাছে ২-৩ গেমে হেরে যান বিকেএসপির আবুল হাসেম হাসিব। তবে পরবর্তীতে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। নাফিজ ইকবাল ৩-০ গেমে দানুক লামাসুরিয়াকে হারান। এরপর জয় ইসলাম ৩-০ ব্যবধানে মুনাসিংহা হারিনকে হারিয়ে দলকে এগিয়ে নেন। শেষ ম্যাচে দলের অধিনায়ক নাসিফ ইকবাল ৩-১ গেমে ভিয়ানদুয়া আকাইনকে হারিয়ে স্বর্ণ নিশ্চিত করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশনের প্রতিক্রিয়া

বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ক্যাপ্টেন এএম মাকসুদ আহমেদ সনেট এই সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, 'এই অর্জনের কৃতিত্ব খেলোয়াড়, কোচ, কর্মকর্তা, স্পন্সর এবং ক্রীড়াবান্ধব সরকারের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার ফুট উচ্চতায় এবং প্রায় ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় খেলতে গিয়ে শুরুতে কিছুটা সমস্যায় পড়লেও খেলোয়াড়রা দ্রুত পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে।' এই মন্তব্য দলের অদম্য মনোবল ও দৃঢ় প্রত্যয়ের পরিচয় দেয়।

এই স্বর্ণ পদক বাংলাদেশের ক্রীড়া জগতে নতুন আশা ও অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করেছে। এটি ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথ সুগম করবে বলে আশা করা যায়।