আইইউবির উল্লেখযোগ্য সাফল্য: ইন্টার-ইউনিভার্সিটি টেবিল টেনিস ফেস্ট ২০২৬
ইন্টার-ইউনিভার্সিটি টেবিল টেনিস ফেস্ট ২০২৬-এ অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি) বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। এই প্রতিযোগিতায় আইইউবির পুরুষ দলগত বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, যা তাদের ক্রীড়া দক্ষতার একটি উজ্জ্বল প্রমাণ। একই সাথে, নারী একক বিভাগে আইইউবির এক শিক্ষার্থী চতুর্থ স্থান অর্জন করেছেন, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক ক্রীড়া সাফল্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
প্রতিযোগিতার বিস্তারিত ও অংশগ্রহণ
বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশনের আয়োজনে দুই দিনব্যাপী এই টুর্নামেন্ট গত সোম ও মঙ্গলবার ঢাকার শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ ইনডোর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশের ৩৬টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মোট ১৭৪ জন পুরুষ ও ৩৬ জন নারী খেলোয়াড় অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে জাতীয় পর্যায়ের র্যাঙ্কিংপ্রাপ্ত খেলোয়াড়ও ছিলেন, যা প্রতিযোগিতার মানকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে।
পুরুষ দলগত বিভাগে আইইউবির বিজয়যাত্রা
এলিট পর্যায়ের পুরুষ দলগত ফাইনালে আইইউবি দল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে হারিয়ে শিরোপা জিতে নেয়। এই বিজয়ের পথে তারা বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সফলতা অর্জন করে:
- সেমিফাইনালে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিকে পরাজিত করে।
- কোয়ার্টার ফাইনালে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি–বাংলাদেশকে হারিয়ে ফাইনালে উত্তীর্ণ হয়।
চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় আইইউবি দল একটি ট্রফির পাশাপাশি ১৫ হাজার টাকা প্রাইজমানি পায়। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিজয়ীদের সম্মানিত করা হয়।
নারী একক বিভাগে আইইউবির সাফল্য
নারী এককের এলিট শ্রেণিতে আইইউবির সায়মা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মোছা. ইম্পা খাতুন (সমাজবিজ্ঞান ও মানববিদ্যা) চতুর্থ স্থান অর্জন করেন। তার এই অর্জন বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী ক্রীড়াবিদদের দক্ষতা ও প্রতিভার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দলের পেছনের সমন্বয় ও পৃষ্ঠপোষকতা
আইইউবি দলের কোচ হিসেবে মো. হাফিজুর রহমান এবং মো. কামরুজ্জামান দায়িত্ব পালন করেন, যাদের নেতৃত্বে দলটি এই সাফল্য অর্জন করে। প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ সমন্বয় করে আইইউবির ডিভিশন অব স্টুডেন্ট অ্যাক্টিভিটিজ (ডোসা), যা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এছাড়া, এই প্রতিযোগিতার পৃষ্ঠপোষক ছিল তুরাগ অ্যাকটিভ, যা ক্রীড়া উন্নয়নে বেসরকারি খাতের ভূমিকাকে তুলে ধরে।
এই সাফল্য আইইউবির ক্রীড়া সংস্কৃতিকে আরও শক্তিশালী করেছে এবং ভবিষ্যতে অন্যান্য প্রতিযোগিতায় তাদের অংশগ্রহণে উৎসাহ যোগাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
