ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখতে নিউজার্সির স্টেডিয়ামে যাওয়ার অভিজ্ঞতা ছিল দারুণ রোমাঞ্চকর বলে জানিয়েছেন ব্রাজিল সমর্থক সাফা কবির। তাঁর যাত্রা শুরু হয় নিউইয়র্কের কুইন্স থেকে। টিকিটের সঙ্গে শাটল সার্ভিস থাকায় তারা ম্যানহাটানের দিকে যাচ্ছিলেন শাটল ধরতে। পথে চারপাশে শুধু ব্রাজিলের জার্সি পরা মানুষের ভিড় দেখেছেন। নিউইয়র্কে কলম্বিয়ান মানুষও অনেক, আর কলম্বিয়ার প্রতিবেশী দেশ হওয়ায় তাঁদের অনেকেই ব্রাজিলকে সমর্থন করছিলেন। সাফা কবির ব্রাজিলের জার্সি পরায় রাস্তায় যাওয়ার সময় অনেকেই তাঁকে দেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছিলেন। সবাই খুব আশাবাদী ছিলেন, ব্রাজিলের জয় নিয়েই কথা বলছিলেন। নরওয়ের জার্সি পরা সমর্থক চোখে পড়েছে খুব কম।
উৎসবমুখর পরিবেশ
সবচেয়ে ভালো লেগেছিল মানুষের সেই উন্মাদনা। কেউ গান গাইছেন, কেউ স্লোগান দিচ্ছেন, কেউ আবার ছবি তুলছেন। পুরো পরিবেশটাই ছিল উৎসবমুখর। স্টেডিয়ামে ঢোকার পরও একই দৃশ্য। যত দূর চোখ যায়, চারপাশে শুধু হলুদ জার্সির সমুদ্র। নিজের সিটে গিয়ে দেখলেন, আশপাশের প্রায় সবাই ব্রাজিলের সমর্থক। সেদিন বুঝতে পেরেছেন, প্রিয় দলকে সমর্থন করতে মানুষ কতটা আবেগ আর ভালোবাসা নিয়ে মাঠে আসে। গ্যালারির পরিবেশ দেখে মনে হচ্ছিল, প্রায় ৭০ শতাংশ দর্শক ব্রাজিলের পক্ষে, বাকি ৩০ শতাংশ নরওয়ের সমর্থক। এত মানুষের সমর্থন আর আত্মবিশ্বাস দেখে তাঁরও মনে হয়েছিল, ব্রাজিল ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়বে। সেই আবহ, সেই সমর্থকদের উচ্ছ্বাস—সব মিলিয়ে অভিজ্ঞতাটা ছিল সত্যিই অসাধারণ।
হলান্ডের গোলে মানসিক অবস্থা
আর্লিং হলান্ড যখন গোল করে নরওয়েকে এগিয়ে দিল, তখনো তাঁর বিশ্বাস ছিল ব্রাজিল ম্যাচে ফিরতে পারবে। মাঠে দেখছিলেন, ব্রাজিলের খেলোয়াড়রা শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করে যাচ্ছে একটি গোলের জন্য। সত্যি বলতে, তখন তিনি দোয়া পড়ছিলেন আর মনে মনে আশা করছিলেন, শেষ মুহূর্তে দলটি হয়তো কোনো ম্যাজিক দেখাবে। বারবার মনে হচ্ছিল, এখনো তো সময় আছে। নরওয়ে একটি গোল করেছে, কিন্তু ব্রাজিলের পক্ষে সমতা ফেরানো অসম্ভব নয়। তিনি বিশ্বাস করছিলেন, কোনো না কোনোভাবে তারা গোল আদায় করে নেবে। এমনও মনে হচ্ছিল, ম্যাচ যদি টাইব্রেকারে গড়ায়, তাহলে ব্রাজিলই জিতবে। শেষ বাঁশি বাজার আগপর্যন্ত তাঁর আশা একটুও কমেনি। বরং মনে হচ্ছিল, এই দলটা হয়তো শেষ মুহূর্তে সবাইকে চমকে দিয়ে ফিরে আসবে।
ব্রাজিলের প্রতি ভালোবাসার শুরু
ব্রাজিল তাঁর কাছে শুধু একটি ফুটবল দল নয়, এটা একধরনের আবেগ। ২০০২ সালে তিনি খুব ছোট ছিলেন। তখন ফুটবল খেলার অনেক কিছুই বুঝতেন না। শুধু এতটুকু জানতেন, বল গোলপোস্টে ঢুকলে সেটাই গোল। সেই সময়ই প্রথম বুঝতে পারেন, বিশ্বকাপ নামে বড় একটি টুর্নামেন্ট হচ্ছে, আর সেই বিশ্বকাপ জিতেছে ব্রাজিল। সম্ভবত তখন থেকেই নিজের অজান্তেই তিনি ব্রাজিলের সমর্থক হয়ে যান। বিশ্বকাপ জয়ের পরদিন নাখালপাড়ার এলাকার অলিগলিতে অনেক বাচ্চাকে রোনালদোর বিখ্যাত হেয়ারস্টাইল করতে দেখেছিলেন। তখন রোনালদোই ছিল সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। তাঁর জনপ্রিয়তা ছিল আকাশছোঁয়া। সেই স্মৃতিগুলো আজও তাঁর মনে গেঁথে আছে। বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুটবল এবং বিশ্বকাপ সম্পর্কে আরও জানতে শুরু করেন। বুঝতে পারেন, চার বছর পরপর বিশ্বের সেরা দলগুলো এই আসরে অংশ নেয়। তখন প্রায়ই মনে প্রশ্ন আসত—বাংলাদেশ কেন বিশ্বকাপে খেলে না? সেই কৌতূহল থেকেই বিশ্বকাপের প্রতি ভালোবাসা আরও বেড়েছে।
প্রতি বিশ্বকাপই তিনি নিয়মিত দেখেন, আর এই টুর্নামেন্ট ঘিরে তাঁর উত্তেজনা সব সময়ই অন্য রকম। মনের ভেতরে একটা স্বপ্নও ছিল—জীবনে একবার হলেও গ্যালারিতে বসে বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখবেন। ২০২২ সালে যখন জানলেন ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্রে হবে, তখন থেকেই পরিকল্পনা শুরু করেন। কীভাবে ভিসা পাবেন, কীভাবে টিকিট সংগ্রহ করবেন, কীভাবে বিশ্বকাপের অংশ হতে পারবেন—এসব নিয়েই ভাবতে শুরু করেন। টিকিট পাওয়া মোটেও সহজ ছিল না, তবে তাঁর কিছু শুভাকাঙ্ক্ষীর সহযোগিতায় সেই স্বপ্ন বাস্তব হয়েছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, তিনি বিশ্বকাপে তাঁর প্রিয় দল ব্রাজিলের ম্যাচই সরাসরি গ্যালারিতে বসে দেখতে পেরেছেন।
হলান্ডের প্রতি দ্বন্দ্ব
সত্যি বলতে, ব্রাজিল যেমন তাঁর আবেগ, তেমনি কয়েকজন ফুটবলারের প্রতিও তাঁর আলাদা দুর্বলতা আছে। তাঁদের মধ্যে হলান্ড অন্যতম। তিনি তাঁর খেলার বড় ভক্ত। অসাধারণ একজন পারফরমার। কিন্তু সেদিন স্টেডিয়ামে বসে যখন দেখলেন হলান্ড নরওয়ের হয়ে গোল করে ফেলেছেন, তখন তাঁর ভেতরে অন্য রকম অনুভূতি কাজ করছিল। একজন ফুটবলপ্রেমী হিসেবে হলান্ডের দক্ষতায় মুগ্ধ হয়েছিলেন, কিন্তু একজন ব্রাজিল সমর্থক হিসেবে মুহূর্তটি মোটেও উপভোগ করতে পারেননি। গোল হওয়ার পর তিনি দাঁড়িয়ে থাকা থেকে বসে পড়েছিলেন। মনে হচ্ছিল, হলান্ডকে যতই পছন্দ করেন না কেন, গোলটা যদি ব্রাজিলের কেউ দিত, তাহলে কত ভালো হতো। কারণ, তখনো ব্রাজিল গোলের দেখা পায়নি। সেই মুহূর্তে প্রিয় খেলোয়াড়ের প্রতি মুগ্ধতা আর প্রিয় দলের প্রতি আবেগের মধ্যে একধরনের দ্বন্দ্ব কাজ করছিল, আর সেটাই তাঁকে সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছিল।
বর্তমান ব্রাজিল দলের মূল্যায়ন
সাফা কবির সব সময়ই ব্রাজিলের সমর্থক। গত কয়েকটি বিশ্বকাপ খুব কাছ থেকে অনুসরণ করেছেন, আর একজন ভক্ত হিসেবে ব্রাজিল তাঁর কাছে শুধু একটি দল নয়, আবেগ ও অনুভূতির নাম। তবে বর্তমান ব্রাজিল দলকে দেখে বারবার মনে হয়েছে, আগের সেই চেনা জাদুটা যেন কোথাও হারিয়ে গেছে। একটা সময় রোনালদো, রোনালদিনহো, কাকা, রবার্তো কার্লোসদের মতো তারকাদের মধ্যে অসাধারণ সমন্বয় ছিল। তাঁরা মাঠে নামলেই প্রতিপক্ষের জন্য ম্যাচ কঠিন হয়ে যেত। কিন্তু এখন দলটিকে দেখে মনে হয়, সেই বোঝাপড়া ও আত্মবিশ্বাসের জায়গাটিতে কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। গ্যালারিতে বসে টপ ভিউ থেকে পুরো খেলা দেখার সুযোগ হয়েছিল বলে বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে মনে হয়েছে। তাঁর মনে হয়েছে, বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে আরও ভালো প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা নিয়ে আসা প্রয়োজন ছিল।
তবে সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছে ম্যাচ শেষে ব্রাজিল সমর্থকদের প্রতিক্রিয়া। খেলা শেষ হওয়ার পর দেখেছেন, অনেক সমর্থক কান্না করছেন, কেউ হতাশায় চুপ হয়ে গেছেন, কেউ আবার ক্ষোভ আর অভিমান প্রকাশ করছেন। তাঁদের সেই ভেঙে পড়া মুখগুলো দেখে তাঁরও খুব খারাপ লাগছিল। কারণ, তিনিও তো তাঁদের মতোই একজন ব্রাজিল ভক্ত। পরাজয়ের কষ্টটা তিনিও অনুভব করেছেন। ব্রাজিল এমন একটি দল, যারা সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপ জিতেছে। তাই তাদের কাছ থেকে প্রত্যাশাও সব সময় বেশি থাকে। সেই দলটি যখন ধারাবাহিকভাবে নিজেদের সেরাটা দেখাতে পারে না, তখন ভক্তদের হতাশ হওয়াটাই স্বাভাবিক। তাঁর কাছেও বিষয়টি কষ্টের, কারণ আমরা সবাই ব্রাজিলের সেই পুরোনো ছন্দ, আত্মবিশ্বাস আর জাদুকরি ফুটবলকে আবার দেখতে চাই।
বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে গ্যালারিতে
স্টেডিয়ামে আরেকটি বিষয় তাঁকে খুব স্পর্শ করেছে। তিনি বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে গ্যালারিতে ছিলেন। আশপাশে থাকা অনেক ব্রাজিলিয়ান সমর্থক পতাকাটি দেখে চিনতে পেরেছেন যে এটি বাংলাদেশের। তাঁরা তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন, জানতে চেয়েছেন তিনি কোথা থেকে এসেছেন। যখন বলেছেন বাংলাদেশ থেকে ব্রাজিলের খেলা দেখতে এসেছেন, তখন তাঁরা খুব আন্তরিকভাবে তাঁকে স্বাগত জানিয়েছেন। কেউ কেউ বলেছেন, তাঁরা বাংলাদেশকে ভালোবাসেন। সেই আন্তরিকতা ও ভালোবাসা তাঁকে মুগ্ধ করেছে। তিনি বিশ্বাস করেন, ব্রাজিলের সামনে এখনো অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। দলটি যদি আরও ভালো প্রস্তুতি নিয়ে ফিরে আসে, তাহলে আগামী বিশ্বকাপে হয়তো আমরা আবার সেই চিরচেনা ব্রাজিলকে দেখতে পাব—যে ব্রাজিল তার জাদুকরি ফুটবল দিয়ে বিশ্বকে মুগ্ধ করত। একজন সমর্থক হিসেবে তিনি সেই প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় আছেন।
হলান্ড ও নেইমার প্রসঙ্গ
সত্যি বলতে, তাঁদের সঙ্গে কথা বলা তো দূরের কথা, যদি একটি ছবিও তুলতে পারতেন, সেটাই তাঁর জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকত। হলান্ডের সঙ্গে দেখা হলে তিনি প্রথমেই তাঁকে স্যালুট জানাতেন। বলতেন, অসাধারণ খেলেছেন। একজন ফুটবলার হিসেবে তাঁর কাছ থেকে শেখার অনেক কিছু আছে। তাঁর গতি, আত্মবিশ্বাস ও মাঠে নিজেকে উপস্থাপনের ধরন সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। সবচেয়ে বেশি যেটা তাঁর ভালো লাগে, তা হলো তাঁর শান্ত ও সংযত মানসিকতা। মাঠে অনেক সময় দেখা যায়, খেলোয়াড়েরা অতিরিক্ত আবেগে জড়িয়ে পড়েন, ধাক্কাধাক্কি, হাতাহাতি বা উত্তেজনায় জড়িয়ে পড়েন। কিন্তু হলান্ডকে তাঁর সব সময়ই খুব নিয়ম মানা একজন খেলোয়াড় মনে হয়েছে। এই ম্যাচেও তিনি সেই পরিচয়ই দিয়েছেন। দুর্দান্ত খেলেছেন এবং দলের জন্য দুটি দারুণ গোল করেছেন।
অন্যদিকে নেইমারের কান্নার দৃশ্যটা তাঁর মন ভেঙে দিয়েছে। কিছুদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল, এটি হয়তো তাঁর শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে। যদিও ফুটবলে এমন গুঞ্জন আমরা আগেও শুনেছি। যেমন একসময় বলা হয়েছিল, এটি হয়তো মেসির শেষ বিশ্বকাপ, কিন্তু তিনি এখনো খেলছেন। তাই নেইমারের ক্ষেত্রেও নিশ্চিত করে কিছু বলা কঠিন। তবু যদি সত্যিই এটি নেইমারের শেষ বিশ্বকাপ হয়ে থাকে, তাহলে তা ফুটবলপ্রেমীদের জন্য খুবই বেদনাদায়ক হবে। কারণ, নেইমার একদিনে এই জায়গায় আসেননি। বছরের পর বছর পরিশ্রম এবং অসাধারণ প্রতিভা দেখিয়ে নিজেকে বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ম্যাচ শেষে তাঁর কান্নার দৃশ্য দেখে একজন ব্রাজিল সমর্থক হিসেবে তাঁর খুব খারাপ লেগেছে। পরাজয়ের কষ্টের পাশাপাশি মনে হচ্ছিল, হয়তো আমরা ধীরে ধীরে একটি যুগের সমাপ্তি দেখছি। নেইমার শুধু একজন তারকা ফুটবলার নন, তিনি পুরো একটি প্রজন্মের আবেগের অংশ। যদি সত্যিই এটি তাঁর শেষ বিশ্বকাপ হয়, তাহলে ব্রাজিলের জার্সিতে তাঁকে মাঠে খুব মিস করবেন।
স্মরণীয় অভিজ্ঞতা
নিঃসন্দেহে এটি তাঁর জীবনের সবচেয়ে সুন্দর ও স্মরণীয় অভিজ্ঞতাগুলোর একটি। তিনি মনে করেন, জীবনের স্বপ্নপূরণের তালিকায় একটি বড় ‘টিক মার্ক’ যোগ হয়েছে—আর সেটি হয়েছে প্রিয় দল ব্রাজিলের ম্যাচ দেখা। এটাই ছিল গ্যালারিতে বসে তাঁর দেখা প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ। তাই অভিজ্ঞতা শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ দেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেক দিনের আবেগ, অপেক্ষা ও স্বপ্ন। তিনি জানেন, আগামী দিনগুলোতে এই অভিজ্ঞতার গল্প অনেকের সঙ্গে ভাগ করে নেবেন। কারণ, মাঠের ভেতরে বসে বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখার অনুভূতি টেলিভিশনের পর্দায় কখনোই পুরোপুরি বোঝা সম্ভব নয়। গ্যালারির উচ্ছ্বাস, সমর্থকদের আবেগ, ম্যাচের উত্তেজনা—সবকিছু মিলিয়ে এটি ছিল এক অন্য রকম অনুভূতি।
ছোটবেলা থেকেই ব্রাজিল তাঁর আবেগের নাম। জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই ব্রাজিলকে সমর্থন করে আসছেন। কখনো ভাবেননি, একদিন বিশ্বকাপের গ্যালারিতে বসে প্রিয় দলের খেলা সরাসরি দেখার সুযোগ পাবেন। আর সেই স্বপ্ন যে বাস্তবে পরিণত হবে, সেটাও কল্পনা করেননি। সবকিছু মিলিয়ে তিনি সৃষ্টিকর্তার কাছে গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। তাঁর ইচ্ছাতেই হয়তো সুযোগটি পেয়েছেন। একই সঙ্গে সেই মানুষটির প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞ, যিনি তাঁর জন্য এত কষ্ট করে টিকিটের ব্যবস্থা করেছেন এবং এই অভিজ্ঞতার অংশ হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। ফলাফল হয়তো তাঁর প্রত্যাশামতো হয়নি, কিন্তু স্মৃতিটা অমূল্য। তাই এই ম্যাচ, এই যাত্রা এবং এই অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে সব সময় বিশেষ হয়ে থাকবে।



