২০২৬ বিশ্বকাপে বড় তারকাদের অনেকেই নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স দেখাতে পারেননি। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, জামাল মুসিয়ালা, ফেদেরিকো ভালভার্দে ও হুলিয়ান আলভারেজের মতো খেলোয়াড়রা যখন দলকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার আশা জাগিয়েছিলেন, তখন তারা নিষ্প্রভ ছিলেন। ফলে তাদের দলগুলো প্রত্যাশা অনুযায়ী এগোতে পারেনি।
রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ ব্যর্থতায়
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এই বিশ্বকাপে নিজের ষষ্ঠ ও শেষ বিশ্বকাপ খেলছিলেন। ৫ ম্যাচে তিনি ৩ গোল করেন, যা তার মানদণ্ডে যথেষ্ট নয়। নকআউট পর্বে প্রথমবার গোল পেলেও সামগ্রিক পারফরম্যান্স হতাশাজনক। পর্তুগাল শেষ ষোলোয় বিদায় নেয়, যেখানে লিওনেল মেসি ও আর্লিং হলান্ডের মতো তারকারা দলকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন।
ব্রুনো ফার্নান্দেজের দুর্দশা
ব্রুনো ফার্নান্দেজের ওপর চাপ ছিল অনেক। পর্তুগালের বিদায়ের পর তার এক্স হ্যান্ডলের কমেন্ট বক্স বন্ধ করতে হয়েছে। ৫ ম্যাচে তার কোনো গোল নেই, মাত্র এক অ্যাসিস্ট। তিনি মাত্র পাঁচটি সুযোগ তৈরি করেছেন এবং বেশিরভাগ পাস ব্যাকপাস বা আড়াআড়ি ছিল। ভিতিনিয়া ও জোয়াও নেভেসও মাঝমাঠে সৃষ্টিশীলতা দেখাতে পারেননি।
জার্মানির মাঝমাঠে জং
জার্মানি কুরাসাওকে ৭-১ গোলে হারালেও পরবর্তী ম্যাচগুলোতে মাঝমাঠের সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। জামাল মুসিয়ালা ৪ ম্যাচে মাত্র এক গোল করেন, যা কুরাসাওয়ের বিপক্ষে। শেষ ৩২-এর ম্যাচে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে তাকে একাদশে রাখা হয়নি। তার পাসের নির্ভুলতা ৮০ শতাংশ, যেখানে পাভলোভিচ ও এনমেচার ৯২ শতাংশ। অধিনায়ক ইউশোয়া কিমিখ কুরাসাওয়ের বিপক্ষে দুটি অ্যাসিস্ট ছাড়া বলার মতো কিছু করেননি এবং ৪ ম্যাচে ৭টি ফাউল করেন। জার্মানি ৪ ম্যাচে ৫ গোল খায়।
ভালভার্দে ও আলভারেজের ব্যর্থতা
উরুগুয়ের ফেদেরিকো ভালভার্দে তিন ম্যাচে কোনো গোল বা অ্যাসিস্ট করতে পারেননি। স্পেনের বিপক্ষে বাঁচামরার ম্যাচে তাকে ৬০ মিনিটে তুলে নেওয়া হয়। অন্যদিকে হুলিয়ান আলভারেজ পাঁচ ম্যাচে কোনো গোল বা অ্যাসিস্ট নেই, মাত্র তিনটি শট পোস্টে। কাতার বিশ্বকাপে তার পারফরম্যান্সের পর তাকে আর্জেন্টিনার ভবিষ্যৎ ভাবা হলেও এবার তিনি নিষ্প্রভ। আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠলে তার কাছে নিজেকে প্রমাণের সুযোগ থাকবে।



