ফুটবল ম্যাচে খেলোয়াড়রা পানীয়র বোতল থেকে এক চুমুক নিয়ে তা কিছুক্ষণ পরই মুখ থেকে ফেলে দেন। এমন দৃশ্য প্রায়ই দেখতে পান ফুটবলপ্রেমীরা। ব্যাপার দেখে অবাক লাগলেও এর পেছনে পুরোদস্তুর কৌশল ও বৈজ্ঞানিক কারণ রয়েছে।
কার্ব রিন্সিং কী?
খেলোয়াড়দের এ অভ্যাসকে 'কার্ব রিন্সিং' বলে। এটি বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসে ২০১৮ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে, যেখানে ইংল্যান্ডের হ্যারি কেন ও পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মতো তারকাকে এ কৌশল ব্যবহার করতে দেখা যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, কার্ব রিন্সিং ২ থেকে ৩ শতাংশ পর্যন্ত পারফরম্যান্স বাড়াতে সহায়তা করে। এটি দীর্ঘ শারীরিক পরিশ্রমের সময় কার্বোহাইড্রেট সেবনের মতোই কার্যকর বলে প্রমাণিত।
পানির চাহিদা ও পেটের অস্বস্তি এড়ানো
সব খেলোয়াড়ের পানি পানের প্রয়োজন এক রকম নয়। কেউ কেউ সামান্য পানিতেই স্বস্তি পান, আবার কেউ কেউ বেশি ঘামলে বেশি পানির প্রয়োজন হয়। তবে খেলার মাঝখানে বেশি পানি পান করলে পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি দেখা দেয়। তরল কুলি করে ফেলা হলো ভারসাম্য বজায় রাখার একটি উপায়— মুখের শুষ্কতা দূর হয়, পেটেও অতিরিক্ত চাপ পড়ে না।
মুখের শুষ্কতা থেকে মুক্তি
দীর্ঘ সময় দৌড়ানোর সময় মুখের লালারস ঘন হয়ে জমে যায়। এতে শ্বাস নেওয়া কিংবা কথা বলা কষ্টকর হতে পারে। কুলি করার মাধ্যমে সেই ঘন লালারস পরিষ্কার হয়ে যায়, মুখে সতেজ অনুভূতি ফিরে আসে এবং শ্বাস সহজ হয়।
পারফরম্যান্সের মনস্তাত্ত্বিক কৌশল
কার্বোহাইড্রেট রিন্সিং কৌশলে ফুটবলাররা কার্বোহাইড্রেট-সমৃদ্ধ দ্রবণ মুখে নিয়ে কুলি করেন, কিন্তু গিলে ফেলেন না। গবেষণা বলছে, এ দ্রবণ মুখে নিলে মস্তিষ্কে একটি ফলস সিগন্যাল যায়, যার ফলে মনে হয় শরীরে ক্যালোরি প্রবেশ করছে। এতে মস্তিষ্ক সাময়িকভাবে ক্লান্তির অনুভূতি কমিয়ে দেয় এবং পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
পাকস্থলীর অস্বস্তি এড়ানো
প্রচণ্ড শারীরিক পরিশ্রমের সময় অতিরিক্ত পানি পান করলে পেট ভারি মনে হয়, যা মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটায়। তাই অনেকে শুধু কুলি করেন, যাতে তৃষ্ণা প্রশমিত হয়, কিন্তু পেট ভারি না হয়। পানীয় না গিলে ফেলে দেওয়ার ফলে পাকস্থলীর অস্বস্তি এড়ানো যায়।



