বিশ্বকাপের মঞ্চে ফের আলোচনায় পর্তুগিজ সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ২০২২ সালের পর ২০২৬ সালের বিশ্বকাপেও একই বিতর্ক—রোনালদোকে কি দলে রাখা উচিত, নাকি বাদ দেওয়া? তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, তাকে পুরোপুরি বাদ না দিয়ে নির্দিষ্ট সময় খেলানোই শ্রেয়। আর সেই সময় নির্ধারণের দায়িত্ব কোচ রবার্তো মার্তিনেজের ওপর বর্তায়।
উদ্বোধনী ম্যাচে নিষ্প্রভ রোনালদো
পর্তুগালের বিশ্বকাপ অভিযানের প্রথম ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে মাঠে নামেন রোনালদো। পুরো ৯০ মিনিট খেললেও তিনি ছিলেন নিষ্প্রভ। ম্যাচে তিনি মাত্র তিনটি শট নেন, যার কোনোটিই লক্ষ্যে ছিল না। প্রতিপক্ষের রক্ষণে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন এবং ম্যাচে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেননি। এই পারফরম্যান্সের পরই প্রশ্ন ওঠে, কেন তাকে পুরো সময় খেলানো হলো?
অন্যান্য তারকাদের তুলনায় হতাশাজনক
একই সময়ে বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডে লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপে, আর্লিং হালান্ড, লামিনে ইয়ামাল ও হ্যারি কানের মতো তারকারা নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। সেখানে রোনালদোর পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। তার গোলখরা নতুন নয়; টানা ১০টি বড় আন্তর্জাতিক ম্যাচে তিনি গোলহীন। বিশ্বকাপ বা ইউরোর মতো আসরে তার সর্বশেষ ওপেন-প্লে গোল এসেছিল ২০২১ সালের ইউরোতে ফ্রান্সের বিপক্ষে।
কোচের অবস্থান ও সমালোচকদের মত
তবে পর্তুগালের কোচ রবার্তো মার্তিনেজ অধিনায়কের পক্ষেই কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘গোল প্রয়োজন এমন ম্যাচে বিশ্বের সেরা গোলদাতাকে (রোনালদো) মাঠ থেকে তুলে নেওয়ার কোনো মানে হয় না।’ সমালোচকদের মতে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বাছাইপর্ব বা দুর্বল প্রতিপক্ষের বিপক্ষে গোল করলেও বড় মঞ্চে রোনালদোকে আগের সেই ধারালো রূপে দেখা যাচ্ছে না।
প্রশ্নটি বাদ দেওয়ার নয়, বরং সময় নির্ধারণের
তাই প্রশ্নটা রোনালদোকে বাদ দেওয়া উচিত কি না, সেটি নয়। বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত—দলের স্বার্থে প্রয়োজন হলে তাকে কখন মাঠ থেকে তুলে নেওয়া উচিত। সেই কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহস কি দেখাতে পারবেন কোচ মার্তিনেজ? বিশ্বকাপে পর্তুগালের ভাগ্য অনেকটাই নির্ভর করছে সেই উত্তরের ওপর।



