ব্রাজিল ও নরওয়ের মধ্যকার বিশ্বকাপ ম্যাচে সবার নজর থাকবে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও আর্লিং হলান্ডের ওপর। দুই তারকার খেলার ধরনে মিলের চেয়ে অমিলই বেশি। ভিনিসিয়ুসের বল নিয়ন্ত্রণ যেন শিল্পীর তুলির আঁচড়, আর হলান্ডের গোল করার ক্ষমতা যেন নিখুঁত যন্ত্রের মতো। তবে একটি বড় মিল হলো—আজকের ম্যাচে দুই দলের ভাগ্য নির্ভর করবে তাদের ওপর।
ভিনিসিয়ুসের পারফরম্যান্স
এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে ভিনিসিয়ুস ৪ গোল করেছেন, গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই তিনি গোল পেয়েছেন এবং ম্যাচসেরা নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর খেলা রোমারিও, রোনালদো, রিভালদোর মতো কিংবদন্তিদের কথা মনে করিয়ে দেয়। নকআউটের প্রথম ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে গোল না পেলেও তিনি প্রতিপক্ষ রক্ষণে ভীতি ছড়িয়েছেন এবং টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা গোলের সম্ভাবনা তৈরি করেছিলেন।
হলান্ডের উত্থান
অন্যদিকে, হলান্ড ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে আসা নরওয়েকে পাঁচ গোল এনে দিয়েছেন। তিনি গোল্ডেন বুটের দৌড়ে ভিনিসিয়ুসের চেয়ে এগিয়ে। দেশের হয়ে সর্বশেষ ১৩টি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ম্যাচের প্রতিটিতেই গোল করেছেন, মোট ২৫ গোল। নরওয়ের কোচ স্তালে সলবাকেন বলেছেন, বিশ্বের সেরা স্ট্রাইকার তাঁর দলেই খেলেন। অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড বলেন, ‘ওকে দলে পাওয়াটা আমাদের জন্য সৌভাগ্য। আমাদের চেষ্টা থাকবে ওকে দিয়ে যত বেশি সম্ভব গোল করানো।’
ব্রাজিলের কৌশল
ব্রাজিল অবশ্য শুধু হলান্ডকে থামানোর কথা ভাবছে না। মাতেওস কুনিয়া বলেন, ‘শুধু হলান্ডকে নিয়ে আমরা ভাবছি না। নরওয়ে দলে আরও অনেক ভালো খেলোয়াড় আছে।’ তবে নরওয়ের কোচ সলবাকেন স্বীকার করেন, ‘আমার মনে হয় সব দলই এখন ভাবছে ভিনিসিয়ুসকে কীভাবে থামানো যায়। তবে কাজটা সহজ নয়। আমরা আমাদের সেরা চেষ্টা করব।’
গোলকিপারের আত্মবিশ্বাস
নরওয়ের ৩৫ বছর বয়সী গোলকিপার ওরইয়ান নিলান্ডের লা লিগায় সেভিয়ার হয়ে ভিনিসিয়ুসের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা আছে। তিনি আত্মবিশ্বাসী, ‘আমাদের ক্ষমতা আছে যে কাউকেই থামিয়ে দেওয়ার।’
আজ রাতের ম্যাচটি ব্রাজিল-নরওয়ের দ্বৈরথের পাশাপাশি ভিনিসিয়ুস ও হলান্ডের ব্যক্তিগত লড়াই হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ।



