বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচে ভিএআরের এক বিরল সিদ্ধান্তে লাল কার্ড দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন সুইজারল্যান্ডের ফরোয়ার্ড ব্রিল এমবোলো। ম্যাচের ৭১ মিনিটে ১-১ সমতায় থাকা অবস্থায় ঘটনাটি ঘটে। প্রথমে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে হলুদ কার্ড দেখান পর্তুগিজ রেফারি জোয়াও পিনহেইরো। তবে ভিএআর পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত বদলে যায়।
ভিএআরের সিদ্ধান্ত ও বিধান
ভিএআর কর্মকর্তা গিয়ের্মো পাচেকো রেফারিকে জানান, পারেদেসকে নয়, বরং এমবোলোকে ‘সিমুলেশন’ (ডাইভ দেওয়ার চেষ্টা) করার জন্য হলুদ কার্ড দেওয়া উচিত ছিল। এরপর ‘মিস্টেকেন আইডেন্টিটি’ বা ভুল খেলোয়াড়কে শাস্তি দেওয়ার বিধান প্রয়োগ করে রেফারি পারেদেসের কার্ড বাতিল করেন এবং এমবোলোকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখান। দ্বিতীয় হলুদ হওয়ায় লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় সুইস এই ফরোয়ার্ডকে। প্রসঙ্গত, ফিফার এই বিধান অনুযায়ী, মাঠের রেফারি ভুল খেলোয়াড়কে হলুদ বা লাল কার্ড দেখালে ভিএআরের সহায়তায় সেই ভুল সংশোধন করা যায়।
এমবোলোর প্রতিক্রিয়া
লাল কার্ড দেখার পর এমবোলো আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। দুই হাতে মুখ ঢেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। পরে সতীর্থ ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে মাঠ ছেড়ে টানেলে চলে যান। ম্যাচের শুরুতে ১০ মিনিটে আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। দ্বিতীয়ার্ধে একের পর এক আক্রমণে যায় সুইজারল্যান্ড। ৬৭ মিনিটে দান এনদয়ের গোলে সমতাও ফেরে। তবে ৫ মিনিট পর এমবোলোর লাল কার্ড ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের গতি কমিয়ে দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
ঘটনার পর ধারাভাষ্যকার ক্রিস ওয়াইজ বলেন, ‘ঘটনার এই মোড়ে এসে এমবোলো যে কতটা বিধ্বস্ত, তা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে।’ সাবেক মার্কিন গোলরক্ষক ব্র্যাড ফ্রিডেল বলেন, ‘এটি সত্যিই অবিশ্বাস্য একটি ঘটনা। শুধু সুইজারল্যান্ড নয়, এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এমন সিদ্ধান্তে অনেকেই অসন্তুষ্ট হবেন। এমবোলোর জন্য আমার খুব খারাপ লাগছে। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সুইস খেলোয়াড়রা যেন মাথা ঠান্ডা রাখে।’ তবে সাবেক ফুটবলার ব্র্যাডলি রাইট-ফিলিপসের মত ভিন্ন। তিনি বলেন, ‘এমবোলোর জন্য নয়, তার সতীর্থদের জন্য আমার খারাপ লাগছে। সে হয়তো তার দলকে সেমিফাইনালে ওঠার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেছে।’



