যুক্তরাষ্ট্র-বেলজিয়াম শেষ ষোলোর লড়াই: কার কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা?
যুক্তরাষ্ট্র-বেলজিয়াম শেষ ষোলোর লড়াই: কার কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা?

একটি ম্যাচ, একটি ফল, তারপরই স্বপ্ন বেঁচে থাকা নয়ত বিদায়। সেই কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হচ্ছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দল বেলজিয়াম। একদিকে তরুণদের উচ্ছ্বাস, গতি ও দর্শকদের অগাধ সমর্থন। অন্যদিকে অভিজ্ঞতা, কৌশল আর বড় ম্যাচে নিজেদের প্রমাণ করার ইতিহাস। কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিটের লড়াইয়ে দুই দলের লক্ষ্য এক।

ম্যাচের সময় ও ভেন্যু

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের সিয়াটল স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার সকাল ৬টায় শুরু হবে শেষ ষোলোর এই মহারণ। আধুনিক অবকাঠামো ও দুর্দান্ত দর্শক পরিবেশের জন্য পরিচিত এই ভেন্যু। স্বাগতিক হওয়ায় গ্যালারির বড় অংশজুড়েই থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থকদের গর্জন, যা ম্যাচে বাড়তি প্রেরণা জোগাতে পারে মার্কিন ফুটবলারদের।

দলের বর্তমান অবস্থা

চলতি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। গ্রুপ পর্বে প্যারাগুয়েকে ৪–১ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী সূচনা করে তারা। অস্ট্রেলিয়াকে ২–০ গোলে হারিয়ে নকআউটের পথ অনেকটাই সহজ করে ফেলে। শেষ ম্যাচে তুরস্কের কাছে হারলেও গ্রুপ পর্ব শেষ করে শক্ত অবস্থানেই। রাউন্ড অব ৩২-এ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে ২–০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা। দ্রুত আক্রমণ, উচ্চগতির প্রেসিং ছিল তাদের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বেলজিয়ামের যাত্রাও ছিল লড়াইয়ে ভরা। গ্রুপ পর্বে মিশরের সঙ্গে ১–১ গোলে ড্র দিয়ে শুরু করলেও পরে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়ায়। শেষ ম্যাচে ইরানের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে অপরাজিত থেকেই নকআউটে ওঠে তারা। রাউন্ড অব ৩২-এ শক্তিশালী সেনেগালকে ৩–২ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেয়। কঠিন পরিস্থিতিতে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখার সামর্থ্য আবারও দেখিয়েছে বেলজিয়াম।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মূল খেলোয়াড় ও কৌশল

যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণের মূল ভরসা অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচ। তার গতি, ড্রিবলিং এবং সৃজনশীলতা প্রতিপক্ষের রক্ষণে বড় হুমকি। মাঝমাঠে ওয়েস্টন ম্যাককেনি ও ইউনুস মুসাহ দলের ছন্দ ধরে রাখছেন। আক্রমণে ফোলারিন বালোগুন গোলের খোঁজে রয়েছেন, আর রক্ষণে টিম রিম ও গোলরক্ষক ম্যাট টার্নার আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছেন দলকে।

বেলজিয়ামের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের অভিজ্ঞ আক্রমণভাগ। রোমেলু লুকাকু সুযোগ পেলেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। মাঝমাঠে কেভিন ডি ব্রুইনার সৃজনশীলতা এখনো দলের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। জেরেমি ডকুর গতি, লোইস ওপেন্ডার ধারালো আক্রমণ এবং রক্ষণে ভাউট ফায়েস ও গোলকিপার কোয়েন কাস্তিলস বেলজিয়ামকে ব্যালেন্সড দল হিসেবে গড়ে তুলেছে।

কোচদের বক্তব্য

যুক্তরাষ্ট্র কোচ বলেছেন, "ঘরের মাঠে খেলাটা আমাদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা। বেলজিয়াম শক্তিশালী দল, আমরা নিজেদের ফুটবলে বিশ্বাস করি।"

বেলজিয়াম কোচের ভাষায়, "নকআউট পর্বে কোনো ম্যাচ সহজ নয়। যুক্তরাষ্ট্র খুবই দ্রুতগতির দল। আমাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে।"

ম্যাচের সম্ভাব্য গতিপথ

কৌশলগতভাবে ম্যাচটির সবচেয়ে বড় লড়াই হবে মাঝমাঠে। যুক্তরাষ্ট্র উচ্চগতির প্রেসিং ও দ্রুত পালটা আক্রমণে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে চাইবে। অন্যদিকে বেলজিয়াম বলের দখল ধরে রেখে ডি ব্রুইনার পাসিং এবং লুকাকুর ফিনিশিং কাজে লাগাতে চাইবে। দুই দলই ট্রানজিশন ফুটবলে দক্ষ হওয়ায় ম্যাচটি হতে পারে দ্রুতগতির, আক্রমণাত্মক এবং রোমাঞ্চে ভরপুর।

স্বাগতিকদের জন্য নতুন ইতিহাস গড়ার সুযোগ। বেলজিয়ামের জন্য বহুদিনের অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। শেষ বাঁশি বাজার পর কে উদযাপন করবে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার আনন্দ? স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র, নাকি ইউরোপের অভিজ্ঞ বেলজিয়াম? তার উত্তর মিলবে সিয়াটলের আলোঝলমলে রাতে।