গত ৩৪ ম্যাচে অপরাজিত ইউরোপ চ্যাম্পিয়ন স্পেন আজ বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি হবে। লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামে এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। হারলেই বিদায়, তাই দুই দলের জন্যই এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বল দখলে স্পেন, গোল করতে বেগ পেতে হচ্ছে
স্পেন এই বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত কোনো গোল হজম করেনি। গ্রুপ ‘এইচ’-এ শীর্ষে থেকে শেষ করেছে ৭ পয়েন্ট নিয়ে। সৌদি আরবকে তারা ৪-০ গোলে হারিয়েছে। তবে সব ম্যাচ মসৃণ ছিল না। উরুগুয়ের বিপক্ষে তারা কষ্টেসৃষ্টে ১-০ গোলে জিতেছে। কেপ ভার্দের বিপক্ষে গ্রুপের প্রথম ম্যাচে বল দখল ছিল ৭৪ শতাংশ, শট ২৭টি, কিন্তু কোনো গোল হয়নি। ৩৯টি ক্রসের মধ্যে মাত্র ৮টি ঠিকঠাক পৌঁছেছিল। কেপ ভার্দে নিচে নেমে দরজা বন্ধ করে রেখেছিল, আর স্পেন সারাক্ষণ চাবি খুঁজেছে।
এই সমস্যা নতুন নয়। ২০২২ বিশ্বকাপে মরক্কোর বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে বিদায় নিয়েছিল স্পেন। বল পায়ে রাখাই যথেষ্ট নয়—এই সত্য স্পেনকে তাড়া করে ফেরে বিশ্বকাপ এলেই।
লামিনে ইয়ামালের ওপর ভরসা
এই পরিস্থিতিতে স্পেনের তালা খোলার চাবি হতে পারেন লামিনে ইয়ামাল। তবে তিনি বিশ্বকাপে এসেছেন চোটের ধকল নিয়ে। সৌদি আরবের বিপক্ষে একটি গোল পেলেও এখনো সেই বিস্ময়বালক ইয়ামাল হয়ে উঠতে পারেননি। আজ নিজের সেরাটা দিতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ইয়ামাল ছন্দে না ফিরলে স্পেনের আক্রমণ আবারও আটকে যেতে পারে পুরোনো তালার সামনে।
অস্ট্রিয়া: ভিন্ন ফুটবল দর্শনের দল
অস্ট্রিয়া কোনো সাধারণ প্রতিপক্ষ নয়। ৪৪ বছর পর তারা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ফিরেছে। তাদের ফুটবল দর্শন স্পেনের ঠিক বিপরীত। যেখানে স্পেন আঁকে, অস্ট্রিয়া সেখানে মুছে দেয়। যেখানে স্পেন তৈরি করে, অস্ট্রিয়া সেখানে ভেঙে দেয়। স্পেনের পাস আর অস্ট্রিয়ার প্রেসিং—এই লড়াই আজ দেখা যাবে। ১৯৭৮ বিশ্বকাপে এই অস্ট্রিয়াই স্পেনকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল। সেই একই স্ক্রিপ্ট তারা আজও লিখতে চাইবে।
স্পেনের কৌশলগত পরীক্ষা
স্পেনের জন্য আজ আরেকটি পরীক্ষা রয়েছে। তারা নিজেদের মতোই খেলবে, নাকি নিজেদের বদলাতে পারবে? বড় দল হওয়ার অর্থ শুধু সুন্দর ফুটবল খেলা নয়, কখনো কখনো কঠিন ফুটবলও খেলতে হয়। তালা খুলতে না পারলে দরজা ভাঙতে হয়। ইয়ামাল যদি ছন্দে ফেরেন, উইলিয়ামস যদি গতি ফিরে পান—তাহলে এই ম্যাচ নব্বই মিনিটেই শেষ হয়ে যেতে পারে। কিন্তু যদি না হয়, তাহলে দিনটা লম্বা হবে, খুব লম্বা।



